* বৃহন্নলার প্রেম *
* বৃহন্নলা নামে একটি গল্প লিখতে শুরু করলাম, গল্পটা একটি সুন্দর প্রেম, কষ্ট, মৃত্যুর সমন্বয়ে। বস্তুত, হিজড়াদেরকেই বৃহন্নলা বলা হয়। এই গল্পটার নাম "হিজড়ার প্রেম" হতে পারতো। কিন্তু এমন সুন্দর, এমন করুণ গল্পের নাম হিজড়ার প্রেম দিতে আমার মন সায় দিচ্ছেনা। হিজড়া শব্দটা আমার কাছে কেমন কাঠখোট্টা লাগছে। যদিও হিজড়া মানেই বৃহন্নলা, আবার হিজড়াদের অন্য একটি নামও আছে, "শিখন্ডী"। সেটাও ভালো লাগছেনা এই গল্পে।
যাই হোক, বৃহৎ+নল+আ- বৃহন্নলা, মানে দীর্ঘভাজ, অর্থাৎ লম্বা হাত। এই লম্বাহাতেরও কাহিনী আছে। সেটা হলো--
মহাভারতের মহাকাব্যের একটি বিশেষ চরিত্র অর্জুন। তিনি যখন অস্ত্রশিক্ষা নিতে গেলেন তখন উর্বশী নামে এক সুন্দরী তাকে প্রেম নিবেদন করেন, অর্জুন তখন উর্বশীর প্রেম প্রত্যাক্ষান করেন, উর্বশী সেসময় অর্জুনকে অভিশাপ দেন, সেই অভিশাপে অর্জুন দেড় বছর হিজড়া হয়ে থাকেন। অর্জুনের মতো একজন বীরপুরুষ হিজড়া নামে থাকবেন সেটা কেমন কথা! সম্মানের ব্যাপার আছেনা! সেজন্য সরাসরি হিজড়া না বলে তাকে বৃহন্নলা বলে আখ্যা দেয়া হয়েছিল, অর্জুনের হাত দুটো ছিলো বেশ লম্বা ( আজানুলম্বিত), সেই লম্বা হাতের জন্য তাকে বৃহন্নলা বলা হয়েছিলো। সেই থেকে হিজড়াদেরকে কেউ কেউ বৃহন্নলা বলে থাকে, কিন্তু বাংলা অভিধানে হিজড়া শব্দের প্রতিশব্দ বৃহন্নলা, এমনটি নেই। যাকগে আসি এবার মুল গল্পে, যে কারণে এত কথা বলছি।
-- একটি সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবার, তিনটি ছেলে সেই পরিবারে। ছেলেরা বেশ প্রাচুর্যের মধ্যে বেড়ে ওঠছে। বাড়ীভর্তি চাকর, চাকরানী সহ ছেলেরা মা, বাবার সাথে হৈহুল্লোড় করে, স্কুলে যাওয়া আসা করে বড়ো হচ্ছে। গৃহকর্তার বড়ো সখ ছিলো তাদের ঘরে একটি সুন্দরী কন্যা সন্তানের জন্ম হোক। প্রথম পুত্রের পর দ্বিতীয়টি কন্যা হলোনা, তৃতীয়টির বেলায় ডাক্তার কবিরাজির পরও পুত্রই হলো। এরপরও আদরের কমতি নেই। চতুর্থ আর কিছু হলোনা।
কিন্তু ছোট ছেলে অলক সামান্য একটু বড় হতে বাবা, মা লক্ষ্য করলেন, একটু যেন কেমন কেমন! মাঝে মাঝে ঘরের দরজা বন্ধ করে মায়ের শাড়ী শরীরে প্যাচায়, মায়ের লিপস্টিক ঠোঁটে লাগাতে গিয়ে গালেও মাখিয়ে ফেলে। বাবার মন কু ডাক দেয়। ছেলেকে বেশ মারধোর করে, কোন কাজ হয়না। ছেলে এখন শাড়ী প্যাচিয়ে লিপস্টিক, কাজল মেখে কপালে টিপ লাগিয়ে ঘরের বাইরে খেলতে যায়, যার ফলে মারধোর আরো বেশী খায়। কোনভাবেই সে মেয়েলী সাজ ছাড়েনা। বাবার ভয়ে দরজা বন্ধ করে সাজে, গান চালিয়ে মেয়েলী নাচ নাচে, আয়নায় নিজেকে দেখে মুগ্ধ হয়। বাবার লজ্জ্বার শেষ নেই। লজ্জ্বায় ডাক্তারের কাছেও নিয়ে যায়না। ওকে যথাসম্ভব ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করে, যেন বাইরের লোকে ব্যাপারটা না জানতে পারে। ওর বড়ো দু'টো ভাই সবসময় একজোট হয়ে চলে আর ওর পেছনে লেগে থাকে, হিজড়া বলে ক্ষেপায়, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, মোট কথা ওকে অতীষ্ট করে ওরা মজা পায়।
-- একসময় দেখা গেলো ছেলে পুড়োদমে হিজড়া বনে গেছে। যার ফলে তারসাথে খারাপ ব্যাবহারের মাত্রাটাও বেড়ে গেছে। ছেলেটাকে আর ঘরের বাইরেই যেতে দেওয়া হয়না, সারাদিন বাবার প্রাসাদবাড়ীতেই ঘুরেফিরে। বাবা এখন ফন্দী করেছে, ওকে খুব জলদি বিয়ে দিতে হবে, যেন বাইরের কেউ না জানতে পারে তার ছেলে হিজড়া। বড়ো দু' টোকে বিয়ের বাকী রেখে ছোটর জন্য বউ খোঁজা হচ্ছে। খোঁজা হচ্ছে একটি গরীব ঘরের মেয়ে। যেন স্বামী হিজড়া জেনে গেলেও ভাতের লোভে হিজড়া স্বামীর ঘরেই থেকে যায়, এতে বাইরের সকলে জানবে, " বউ আছে ছেলের, তো হিজরা হয় কিভাবে!"
-- গীতা নামের মেয়েটির মা নেই, বাবা খুব গরীব। তবুও খুব আদরের একটি মাত্র মেয়ে।
দেখতেও মেয়েটি অনেক সুন্দরী।
-- কর্তাবাবু ঘটক লাগালেন ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজতে। ঘটক গীতার খবর নিয়ে এলো। গীতার বাবাও বেশ খুশী এতোবড়ো বাড়ীতে মেয়ের বিয়ে হবে বলে। কল্পনায় ছবি আঁকে গরীব বাবা, তার এমন সুন্দর মেয়েটিকে গয়নাগাটি আর দামী শাড়ীতে কেমন সুন্দর লাগবে! মেয়েটি প্রাসাদে ঘুমাবে, পেটভরে খাবে। বাবা খুব খুশী।
অলকের বড়ো দুটি ভাই কিন্তু মোটেও খুশীনা তাতে। তাদের আগে ছোটর বিয়ে হচ্ছে, সেটা সহ্য করতে পারছেনা।
-- যাইহোক, বিয়েটা হয়ে গেলো। বাবার স্বপ্নে দেখা রাজরানীর বেশেই গীতা স্বামীর বাড়ী এলো।
বাসর ঘরে গীতা স্বামীর অপেক্ষা করছেতো করছেই। অনেকরাত পর অলক এলো ঘরে, গীতার পাশে বসে হাত দুটি ধরে বসে আছে মাথাটা নীচু করে। গীতা জান্তে চায়,
" কি হয়েছে? তুমি এমন নীচের দিকে চেয়ে আছো কেন? আমাকে দেখো।
" গীতা, তোমাকে কিছু কথা বলি আগে?
" বলো, আমার দিকে তাকিয়ে বলো।
" না, পারছিনা। আগে আমার কথাগুলো শুনো।
" আচ্ছা, বলো।
" আমি-- আমি একজন পুরুষ নই, হিজড়া আমি।
শুনে গীতা হাতদুটো সড়িয়ে নিয়েছে।
" তবে কেন আমাকে বিয়ে করলে? জানতেই যখন, এমন সর্বনাশ কেন করলে?
গীতা কেঁদে যাচ্ছে।
" আমি বিয়ে করতে চাইনি, আমার বাবা জোর করে বিয়ে দিয়েছে।
সে রাতে আর কোন কথা হয়নি। গীতা কেঁদে রাত পার করে দিয়েছে। অলক সোফায় বসে অনুশোচনায় রাত পার করেছে।
-- গীতা বুদ্ধিমতি মেয়ে, মন খারাপটা কাউকে বুঝতে দেয়নি। ভাগ্যটাকে মেনে নিলো। ভেবে নিলো অলক যেমনই হোক, সে তার স্বামী। অলক যে অনুশোচনায়, যন্ত্রনায় ভুগছে সেটা বুঝতে পেরে নিজেই অলকের সাথে মিশার চেষ্টা করে মিশে গিয়েছে।
" আচ্ছা, ঠিক আছে। মন খারাপ করোনা। আমরাতো ভালো বন্ধু হতে পারি, তাইনা?
একটা জীবন কাটিয়ে দেয়া যাবে বন্ধু হয়ে।
অলক খুব খুশী, গীতাকে অনেক আদর করে, ভালোবাসে গীতাও তেমনি। দু'জনে সারাক্ষন খুনসুটিতে মেতে থাকে, ঘরে বসে লুডু খেলে, ছাদে যায় রাতে, গীতা গান গায় অলক শুনে। খুব সুখী দু'জনে। কর্তাবাবু আরো খুশী, ইজ্জ্বত বেঁচে গিয়েছে।
ঐ দু' টো ভাই মোটেও খুশী নয়, অলকের সাথে লেগে থাকে, টিটকারি দিয়ে কথা বলে,
" কিরে হিজড়া, বউয়ের সাথে সারাদিন রাত কি করিস? তুইনা হিজড়া!
এসব কথায় অলক পাশকাটিয়ে চলে আসে ঘরে, মন খারাপ করে। গীতা তখন আদর করে কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। এভাবেই কাটছিলো তাদের দিন।
কিন্তু বড়ো দুটো ভাইয়ের আরো অপমান করতে বাকী ছিলো। শুধু সুযোগ খুঁজতো কিভাবে গীতার সর্বনাশটা করতে পারবে। অলকও সেটা টের পেয়েছিলো।
" গীতা, আমার ভাইদের নজর ভালো নয়, তারা তোমার কোন ক্ষতি করে দিতে পারে।
" কি করবে? তারা আমার ভাসুর হয়, এতটুকু খারাপ করবেনা।
" তুমি চেনোনা তাদের, তারা আমাকে সারাটা জীবন জ্বালিয়েছে। তুমি সাবধানে থেকো।
" আচ্ছা, তাই থাকবো।
-- এরপর? সাবধান থেকেও গীতা নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি, এমনকি প্রানেও বাঁচতেও পারেনি মেয়েটি।
একদিন অলক ঘরে ছিলোনা, কর্তা আর গিন্নীও বাড়ী ছিলোনা।
ভাই দু'টো সেই সুযোগে অলকের রুমে এসেছে।
" সুন্দরী, কি করিস তুই হিজড়ার সাথে? কেন এতো ভালোবাসিস ওটাকে?
" আপনারা না আমার ভাসুড় হোন! যান আপনারা আমার ঘর থেকে।
কথা শুনেনি তারা, দু' জনে মিলে ফুলের মতো সুন্দর মেয়েটাকে ভোগ করে নিলো। রক্তাক্ত গীতা যখন মেঝেতে পড়ে কাতরাচ্ছিলো তারা তখন পিশাচের মতো হাসছিলো। এমনি সময় অলক চলে এলো। দৌঁড়ে গিয়ে গীতাকে ধরে চিৎকার করে কাঁদছে আর ভাইদের উদ্দেশ্যে বলছে,
" এটা কি করলে তোমরা! ও' তো তোমাদের ভাইয়ের বউ!
ওরা তবু হাসছিলো।
গীতা, অলকের চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নিষ্টুর পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলো।
গীতাকে কোল থেকে সরিয়ে অলক ঝাঁপিয়ে পড়লো ভাইদের উপড়। একা অলক পেরে ওঠেনি ভাইদের সাথে। দুই ভাই মিলে খুব সহজে অলককে গীতার সহযাত্রী করে দিলো। গীতাকে জড়িয়ে ধরে অলকও ঘুমিয়ে গেলো চিরদিনের জন্য।।
------------------------------------------
যাই হোক, বৃহৎ+নল+আ- বৃহন্নলা, মানে দীর্ঘভাজ, অর্থাৎ লম্বা হাত। এই লম্বাহাতেরও কাহিনী আছে। সেটা হলো--
মহাভারতের মহাকাব্যের একটি বিশেষ চরিত্র অর্জুন। তিনি যখন অস্ত্রশিক্ষা নিতে গেলেন তখন উর্বশী নামে এক সুন্দরী তাকে প্রেম নিবেদন করেন, অর্জুন তখন উর্বশীর প্রেম প্রত্যাক্ষান করেন, উর্বশী সেসময় অর্জুনকে অভিশাপ দেন, সেই অভিশাপে অর্জুন দেড় বছর হিজড়া হয়ে থাকেন। অর্জুনের মতো একজন বীরপুরুষ হিজড়া নামে থাকবেন সেটা কেমন কথা! সম্মানের ব্যাপার আছেনা! সেজন্য সরাসরি হিজড়া না বলে তাকে বৃহন্নলা বলে আখ্যা দেয়া হয়েছিল, অর্জুনের হাত দুটো ছিলো বেশ লম্বা ( আজানুলম্বিত), সেই লম্বা হাতের জন্য তাকে বৃহন্নলা বলা হয়েছিলো। সেই থেকে হিজড়াদেরকে কেউ কেউ বৃহন্নলা বলে থাকে, কিন্তু বাংলা অভিধানে হিজড়া শব্দের প্রতিশব্দ বৃহন্নলা, এমনটি নেই। যাকগে আসি এবার মুল গল্পে, যে কারণে এত কথা বলছি।
-- একটি সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবার, তিনটি ছেলে সেই পরিবারে। ছেলেরা বেশ প্রাচুর্যের মধ্যে বেড়ে ওঠছে। বাড়ীভর্তি চাকর, চাকরানী সহ ছেলেরা মা, বাবার সাথে হৈহুল্লোড় করে, স্কুলে যাওয়া আসা করে বড়ো হচ্ছে। গৃহকর্তার বড়ো সখ ছিলো তাদের ঘরে একটি সুন্দরী কন্যা সন্তানের জন্ম হোক। প্রথম পুত্রের পর দ্বিতীয়টি কন্যা হলোনা, তৃতীয়টির বেলায় ডাক্তার কবিরাজির পরও পুত্রই হলো। এরপরও আদরের কমতি নেই। চতুর্থ আর কিছু হলোনা।
কিন্তু ছোট ছেলে অলক সামান্য একটু বড় হতে বাবা, মা লক্ষ্য করলেন, একটু যেন কেমন কেমন! মাঝে মাঝে ঘরের দরজা বন্ধ করে মায়ের শাড়ী শরীরে প্যাচায়, মায়ের লিপস্টিক ঠোঁটে লাগাতে গিয়ে গালেও মাখিয়ে ফেলে। বাবার মন কু ডাক দেয়। ছেলেকে বেশ মারধোর করে, কোন কাজ হয়না। ছেলে এখন শাড়ী প্যাচিয়ে লিপস্টিক, কাজল মেখে কপালে টিপ লাগিয়ে ঘরের বাইরে খেলতে যায়, যার ফলে মারধোর আরো বেশী খায়। কোনভাবেই সে মেয়েলী সাজ ছাড়েনা। বাবার ভয়ে দরজা বন্ধ করে সাজে, গান চালিয়ে মেয়েলী নাচ নাচে, আয়নায় নিজেকে দেখে মুগ্ধ হয়। বাবার লজ্জ্বার শেষ নেই। লজ্জ্বায় ডাক্তারের কাছেও নিয়ে যায়না। ওকে যথাসম্ভব ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করে, যেন বাইরের লোকে ব্যাপারটা না জানতে পারে। ওর বড়ো দু'টো ভাই সবসময় একজোট হয়ে চলে আর ওর পেছনে লেগে থাকে, হিজড়া বলে ক্ষেপায়, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, মোট কথা ওকে অতীষ্ট করে ওরা মজা পায়।
-- একসময় দেখা গেলো ছেলে পুড়োদমে হিজড়া বনে গেছে। যার ফলে তারসাথে খারাপ ব্যাবহারের মাত্রাটাও বেড়ে গেছে। ছেলেটাকে আর ঘরের বাইরেই যেতে দেওয়া হয়না, সারাদিন বাবার প্রাসাদবাড়ীতেই ঘুরেফিরে। বাবা এখন ফন্দী করেছে, ওকে খুব জলদি বিয়ে দিতে হবে, যেন বাইরের কেউ না জানতে পারে তার ছেলে হিজড়া। বড়ো দু' টোকে বিয়ের বাকী রেখে ছোটর জন্য বউ খোঁজা হচ্ছে। খোঁজা হচ্ছে একটি গরীব ঘরের মেয়ে। যেন স্বামী হিজড়া জেনে গেলেও ভাতের লোভে হিজড়া স্বামীর ঘরেই থেকে যায়, এতে বাইরের সকলে জানবে, " বউ আছে ছেলের, তো হিজরা হয় কিভাবে!"
-- গীতা নামের মেয়েটির মা নেই, বাবা খুব গরীব। তবুও খুব আদরের একটি মাত্র মেয়ে।
দেখতেও মেয়েটি অনেক সুন্দরী।
-- কর্তাবাবু ঘটক লাগালেন ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজতে। ঘটক গীতার খবর নিয়ে এলো। গীতার বাবাও বেশ খুশী এতোবড়ো বাড়ীতে মেয়ের বিয়ে হবে বলে। কল্পনায় ছবি আঁকে গরীব বাবা, তার এমন সুন্দর মেয়েটিকে গয়নাগাটি আর দামী শাড়ীতে কেমন সুন্দর লাগবে! মেয়েটি প্রাসাদে ঘুমাবে, পেটভরে খাবে। বাবা খুব খুশী।
অলকের বড়ো দুটি ভাই কিন্তু মোটেও খুশীনা তাতে। তাদের আগে ছোটর বিয়ে হচ্ছে, সেটা সহ্য করতে পারছেনা।
-- যাইহোক, বিয়েটা হয়ে গেলো। বাবার স্বপ্নে দেখা রাজরানীর বেশেই গীতা স্বামীর বাড়ী এলো।
বাসর ঘরে গীতা স্বামীর অপেক্ষা করছেতো করছেই। অনেকরাত পর অলক এলো ঘরে, গীতার পাশে বসে হাত দুটি ধরে বসে আছে মাথাটা নীচু করে। গীতা জান্তে চায়,
" কি হয়েছে? তুমি এমন নীচের দিকে চেয়ে আছো কেন? আমাকে দেখো।
" গীতা, তোমাকে কিছু কথা বলি আগে?
" বলো, আমার দিকে তাকিয়ে বলো।
" না, পারছিনা। আগে আমার কথাগুলো শুনো।
" আচ্ছা, বলো।
" আমি-- আমি একজন পুরুষ নই, হিজড়া আমি।
শুনে গীতা হাতদুটো সড়িয়ে নিয়েছে।
" তবে কেন আমাকে বিয়ে করলে? জানতেই যখন, এমন সর্বনাশ কেন করলে?
গীতা কেঁদে যাচ্ছে।
" আমি বিয়ে করতে চাইনি, আমার বাবা জোর করে বিয়ে দিয়েছে।
সে রাতে আর কোন কথা হয়নি। গীতা কেঁদে রাত পার করে দিয়েছে। অলক সোফায় বসে অনুশোচনায় রাত পার করেছে।
-- গীতা বুদ্ধিমতি মেয়ে, মন খারাপটা কাউকে বুঝতে দেয়নি। ভাগ্যটাকে মেনে নিলো। ভেবে নিলো অলক যেমনই হোক, সে তার স্বামী। অলক যে অনুশোচনায়, যন্ত্রনায় ভুগছে সেটা বুঝতে পেরে নিজেই অলকের সাথে মিশার চেষ্টা করে মিশে গিয়েছে।
" আচ্ছা, ঠিক আছে। মন খারাপ করোনা। আমরাতো ভালো বন্ধু হতে পারি, তাইনা?
একটা জীবন কাটিয়ে দেয়া যাবে বন্ধু হয়ে।
অলক খুব খুশী, গীতাকে অনেক আদর করে, ভালোবাসে গীতাও তেমনি। দু'জনে সারাক্ষন খুনসুটিতে মেতে থাকে, ঘরে বসে লুডু খেলে, ছাদে যায় রাতে, গীতা গান গায় অলক শুনে। খুব সুখী দু'জনে। কর্তাবাবু আরো খুশী, ইজ্জ্বত বেঁচে গিয়েছে।
ঐ দু' টো ভাই মোটেও খুশী নয়, অলকের সাথে লেগে থাকে, টিটকারি দিয়ে কথা বলে,
" কিরে হিজড়া, বউয়ের সাথে সারাদিন রাত কি করিস? তুইনা হিজড়া!
এসব কথায় অলক পাশকাটিয়ে চলে আসে ঘরে, মন খারাপ করে। গীতা তখন আদর করে কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। এভাবেই কাটছিলো তাদের দিন।
কিন্তু বড়ো দুটো ভাইয়ের আরো অপমান করতে বাকী ছিলো। শুধু সুযোগ খুঁজতো কিভাবে গীতার সর্বনাশটা করতে পারবে। অলকও সেটা টের পেয়েছিলো।
" গীতা, আমার ভাইদের নজর ভালো নয়, তারা তোমার কোন ক্ষতি করে দিতে পারে।
" কি করবে? তারা আমার ভাসুর হয়, এতটুকু খারাপ করবেনা।
" তুমি চেনোনা তাদের, তারা আমাকে সারাটা জীবন জ্বালিয়েছে। তুমি সাবধানে থেকো।
" আচ্ছা, তাই থাকবো।
-- এরপর? সাবধান থেকেও গীতা নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি, এমনকি প্রানেও বাঁচতেও পারেনি মেয়েটি।
একদিন অলক ঘরে ছিলোনা, কর্তা আর গিন্নীও বাড়ী ছিলোনা।
ভাই দু'টো সেই সুযোগে অলকের রুমে এসেছে।
" সুন্দরী, কি করিস তুই হিজড়ার সাথে? কেন এতো ভালোবাসিস ওটাকে?
" আপনারা না আমার ভাসুড় হোন! যান আপনারা আমার ঘর থেকে।
কথা শুনেনি তারা, দু' জনে মিলে ফুলের মতো সুন্দর মেয়েটাকে ভোগ করে নিলো। রক্তাক্ত গীতা যখন মেঝেতে পড়ে কাতরাচ্ছিলো তারা তখন পিশাচের মতো হাসছিলো। এমনি সময় অলক চলে এলো। দৌঁড়ে গিয়ে গীতাকে ধরে চিৎকার করে কাঁদছে আর ভাইদের উদ্দেশ্যে বলছে,
" এটা কি করলে তোমরা! ও' তো তোমাদের ভাইয়ের বউ!
ওরা তবু হাসছিলো।
গীতা, অলকের চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নিষ্টুর পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলো।
গীতাকে কোল থেকে সরিয়ে অলক ঝাঁপিয়ে পড়লো ভাইদের উপড়। একা অলক পেরে ওঠেনি ভাইদের সাথে। দুই ভাই মিলে খুব সহজে অলককে গীতার সহযাত্রী করে দিলো। গীতাকে জড়িয়ে ধরে অলকও ঘুমিয়ে গেলো চিরদিনের জন্য।।
------------------------------------------
---------------- তাহমিনা নাহার।
১৩-১-২০১৮
---------------------

No comments