Header Ads

অপরকে উপদেশ দিয়ে নিজে আমল না করার পরিনাম।

অপরকে উপদেশ দিয়ে নিজে আমল না করার প্রবনতাটি মারাত্মক বিরক্তির কারণ। আল্লাহর দরবারে এটা বড়ই ঘৃনিত একটি স্বভাব। পবিত্র কালামেে পাকে তাই মহান রাব্বুল ইজ্জত ঘোষণা করেন - " ইয়া আইয়্যুহাল লাজিনা আমানু লিমা তাক্বুলুনা মা লা তাফয়ালুন।  কাবুরা মাক্বতান ইন্দাল্লাহি আন তাক্বুলু মা লা তাফয়ালুন।

অর্থাৎ - হে ঈমানদার সকল! তোমরা এমন কথা কেন বল, যা তোমরা করনা? আল্লাহর কাছে এটা বড়ই বিরক্তিকর যে তোমরা এমন কথা বলবে যা তোমরা নিজেরা সম্পন্ন করবে না। মানে মানুষের জন্য  উপদেশ ছলে তোমরা যা বল অথচ নিজেরা ই তা করনা। আমাদের সমাজে বর্তমানে লক্ষ্য করার বিষয় হল উপদেশ দেয়া একটা প্রপেশনাল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বক্তাগণ বক্তব্যের মাঠে কোমড় বেধে অন্যের জন্য উপদেশ খয়রাত করে থাকেন, অথচ বাস্থবে নিজের অংগনে তা মোটেই পালন করেন না। রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সমাজ পতিদের মধ্যে বিষয়টি প্রকট ভাবে লক্ষনীয়।

আবার এদের বিষয়টি অনেকে ই মনে করেন তারা এটা পেয়েই এসেছেন। মূখে যা বলবেন বাস্থবে তা করবেন না। নেতা হতে গেলে এমন গুণ ই নাকি দরকার (?) আজিব!  সমাজ পতি যারা, তারা হন অন্যদের অনুকরণীয় ব্যক্তি। তিনি যদি কথায় এক কাজে আরেক স্বভাবের হন, তাহলে অন্য সাধারণের অবস্থা তো আরো খারাপ হওয়া ই স্বাভাবিক। তাই বুকে মূখে একই ভাষা ও আমল হওয়া সকলের জন্য ই দরকার।
অপর দিকে ওয়াইজদের মধ্যে ও অনেকেই আছেন, যারা বক্তব্যের মাঠকে দুন্দর উপদেশ উপমা ও নসিহত দ্বারা প্রাণবন্ত করে তুলেন। হাসান কাঁদান। আবেগাপ্লুত করেন। মাঠকে ধর্মীয় আমেজে ভরপুর করে তুলেন: কিন্তু খুজ নিয়ে দেখা গেছে  তারা নিজেরাই উপদেশ প্রদান কৃত বিষয়াবলীর আমল করেন না। এটা জাতির জন্য  নিতান্ত ই দূর্ভাগ্যজনক। এর পার্থিব পরিনতি হল ঐ সকল ওয়াইজদের ওয়াজের প্রভাব শ্রুতাদের মধ্যে প্রতিফলিত হয় না। সাময়িক সূর ও বক্তব্যের পটুত্বে অনেকেই অভিভূত হন। কিন্তু এ প্রভাব স্থায়ী হয় না। বাস্থব জীবনে শ্রুতারা শ্রুত বিষয়ে আমলি হয়ে উঠেন না। তবে একটি কাজ হয় যে, বক্তাগণ সস্থা  জনপ্রিয়তা দিয়ে রমরমা কামাইর আয়োজনে সফল হন। অপরদিকে মাহফিল আয়োজকগণ বেশী মানুষ উপস্থিত করতে পেরে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলে গদগদে খুশির আমেজ অনুভব করেন। এ ছাড়া এ সকল আয়োজনের বড় একটা ফায়েদা অন্তত  আমার নজরে পরিলক্ষিত হয় না। অবশ্য সবটাই যে এমন তা আমি বলছি না। কিছু বক্তা ও কিছু কিছু মাহফিল বাস্থবে এখলাছের সাথে ধর্মের উপকার সাধন করে থাকে তা বলার ই অপক্ষা রাখে না।

আমি যে সকল আত্মভুলা উপদেশ দাতা ও ওয়াইজের কথা বলতে চাই তাদের পরকালীন পরিণতির ব্যপারে একখানা  হাদীছ উপস্থাপন করছি। হযরত উসামা বিন যায়েদ ( রা:) থেরকে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমান -" এক ব্যক্তিকে এনে ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অত:পর তার নাড়িগুলো ঘুরপাক খেতে থাকবে। যেমনি ভাবে গাধা আটার চাক্কি নিয়ে ঘুরতে থাকে।

অত:পর দোজখবাসী গণ তার নিকট এসে জড়ো হয়ে বলতে থাকবে ওহে অমুক!  তুমি কি আমাদেরকে  সৎ কাজের আদেশ দিতে না এবং অসৎ কাজে নিষেধ  করতে না?  সে বলবে হ্যা আমি তোমাদেরকে ভাল কাজের উপদেশ দিতাম অথচ আমি তা করতাম না। আমি তোমাদেরকে মন্দকাজে নিষেধ করতাম কিন্তু আমি নিজেই তা করতাম। ( বুখারী ও মুসলিম) 
আহ! কতই না নিকৃষ্ট সে দিনের পরিনতি, যে দিন মেকি  উপদেশ দাতার নাড়িভূড়ি গুলো ঘুরপাক খেতে থাকবে, যে ভাবে আটা পেষার চাক্কিকে গাধা চক্কর দিয়ে পিষতে থাকে। আর এমন ভয়াবহ পরিনতি হাশরবাসী দেখবে বিশেষ করে যাদেরকে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা তো প্রশ্ন ই করে বসবে যে ওহে!  তুমি কি আমাদের উপদেশ দাতা না? কি লজ্জাকর পরিস্থিতি!  আল্লাহর দরবারে পানা চাই।

লিখা ইমাম বাংলা

No comments

Powered by Blogger.