----- বাল্যবিবাহ কখন শুরু হয়েছিল কে জানে,এর নির্দিষ্ট সময়কাল হয়তো আমরা কেউ বলতে পারবনা।দাদি-নানীদের কাছে শুনেছি আগে নাকি ৬-৭ বছরের বড় মেয়েদের ঘরে রাখাটা অসম্মানজনক ছিল,তাই তাদেরও ঐ বয়সটাতেই বিয়ে হয়েছিল।কিন্তু ধিরে ধিরে এর বিভিন্ন কুফলের কারণে এক সময় রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নিরলস প্রচেষ্টায় তা রোধ হয়। এর বিরুদ্ধে আইন প্রণীত হয়।----কিন্তু পোষাক আর চুলের ফ্যাশন যেমন পুরোন ডিজাইন গুলোই আধুনিক রুপ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ঠিক তেমনি বাল্য-বিবাহ যেন ফিরে এসেছে আধুনিকরুপে।
-------ইদানিং খুব দেখা যায় ১৩-১৬বছরের মেয়েরা বৌ হয়ে আসছে।এ আধুনিক যুগেও বাবা-মায়েরা তাঁদের ফুট ফুটে মেয়েগুলোকে বসিয়ে দিচ্ছে বিয়ে নামক এমন এক পিড়িতে যার জন্য সে মেয়েটির দেহ ও মন কোনটাই তৈরি নয়। তাঁর চোখ থেকে কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষিত হওয়ার, স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।যে চোখ স্বপ্ন দেখত অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার তাঁর দৃষ্টি সীমানা নির্দিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে,তাঁর দেখা রঙিন স্বপ্নগুলোর উপর টেনে দেয়া হচ্ছে কালোচাদরের পর্দা। কারো বরের বয়স হয়তো তাঁর সাথে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, অধিকাংশই বয়সের পার্থক্য অনেক বেশি। নিজের ভার বহনের ক্ষমতা অর্জনের আগেই তাঁর উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে পুরো একটি পরিবারের কয়েকজনকে নিয়ে ভাববার ভার। শুনেছি এখন বিদেশ থেকে শিক্ষিত ছেলেরাও নাকি দেশে গিয়ে অল্পবয়সের মেয়ে খোঁজে।আমি এমন কয়েকজন শ্বাশুরির সাথে কথা বলে জানতে চেয়েছি এর কারণ কি? তাঁরা উত্তরে বললেন ছোট মেয়েদের নাকি নিজেদের মতো গড়ে নেয়া যায়।আবার তাঁদেরই অন্যসময় বলতে শুনেছি বৌ শুধু ঘুরে বেড়ায়, ঘরের কোন খবর রাখেনা,খবর রাখবে কিভাবে? তাঁদের সময়টাই এখন রঙিন রঙিন সব স্বপ্নের সাথে নিজেকে রাঙাবার।শিক্ষিত ছেলেদের কথা বলতে পারবনা।তাঁদের শিক্ষা হয়তো এর ব্যাখ্যা দিতে পারবে।এমন অনেক পুরুষকে দেখেছি খুব প্রফুল্লচিত্তে বৌয়ের বয়সের কথা বলতে এবং তাঁকে খুব গর্বিত মনে হত অল্প বয়সের মেয়েকে বিয়ে করে।যাই হোক সে শাশুড়ীদের একসময় আক্ষেপ করতে দেখেছি তাঁর বৌটা ছেলে নিয়ে আলাদা হতে চায়। একটি মেয়ে তৈরি হবার আগেই তাঁর উপর চাপিয়ে দেয়া হয় এমন দায়িত্ব যা বোঝার এবং বহন করার দৈহিক ও মানসিক পরিপক্কতা ও শিক্ষা কোনটাই সে অর্জন করতে পারেনি।তার উপর বয়সে বড় ছেলের সাথে বিয়ে হওয়ায় ছেলের বাবা-মায়েরচাপ থাকে সন্তান নেয়ার।,এতো ছোট বয়সের শরীর যা কোনভাবেই প্রস্তুত নয়।তাই সন্তানধারনের পর সে বুঝে পায়না কিভাবে নিজেকে সামলাবে, সংসার পারিপার্শ্বিকতা সব কিছু তাঁর কাছে অনেক বেশি অসহনীয় মনে হয়। তাই তাঁর অপরিপক্ক জ্ঞান তাকে উদ্বুদ্ধ করে সব ঝামেলা ছেড়ে আলাদা নিজের মতো থাকার সিদ্ধান্ত নিতে। অন্যদিকে হাসিখুশি, উচ্ছল মেয়েটি দিন দিন অপ্রত্যাশিত মানসিক চাপ আর শারীরিক দুর্বলতার কারণে নিষ্প্রভ হতে থাকে।শুরুতে অনেক মেয়েদের দেখা যায় খুব হাসিখুশি কিন্তু ধারাবাহিকভাবে যখন সংসার -সন্তানের প্রতি দায়িত্ব বাড়তে থাকে অপরিপক্কতা আর যথাযথ শিক্ষার অভাবে ক্লান্ত জীবন নিয়ে মায়ের কাছে নানা অভিযোগ করতে।অপরদিকে যেসব ছেলেরা বিয়ের উপযোগী ও যথাযথ শিক্ষাপ্রাপ্ত মেয়ে বিয়ে করেছে তাঁদের দেখেছি সংসার-সন্তানের সব দায়িত্ব মেয়েটি সুন্দরভাবে সেরে নিচ্ছে নিজজ্ঞানে,ছেলেটিকে ভাবতে হচ্ছেনা মেয়েটি পারবে কিনা।
------ মেয়েদেরর জীবনের এ অবস্থার জন্য কাকে দায়ী করব? সে বাবা- মাকে? যে মা জন্মদেয়ার কষ্ট থেকে শুরু করে তাকে ১৩ বছর লালন করেছে পরম মমতায়। সে কিভাবে পারে মেয়েকে এমন এক নিষ্প্রাণ জীবন উপহার দিতে? আর কেউ না জানলেও একজন মাতো জানবেন তাঁর মেয়েটি কতটুকু ভার বহনের উপযুক্ত,নাকি দায়ী করব সে ছেলের বাবা মাকে যিনি নিজের মতো করে মেয়েটির মনকে পরিচালিত করবেন বলে একটা বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে আসেন গড়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে।--- এতো কিছু দেখার পরও অহরহ এমন উদাহরণের শেষ নেই।নিজের মেয়েটির বয়স ১৩। দেখি আর ভাবি এও সম্ভব? এ মেয়ে এখনো নিজেকে গোছাতে পারেনা,নিজের বুদ্ধিতে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা, সে কিভাবে একটি পরিবার গোছাবে? যে দায়িত্ব কি তাই বুঝে উঠতে পারলনা সে কিভাবে সংসার, সন্তানের দায়িত্ব নেবে?তাঁর হাসিখুশি,স্বপ্নিল জীবনকে কিভাবে আমি মা হয়ে শেষ করে দিব?মেয়েটির মুখ দেখে এ কথাগুলো ভাবলে বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠে। আমারই ছোট একটি ভুল সিদ্ধান্ত আমার এতো কষ্টে গড়া আদরের মেয়েটির জীবন অভিশপ্ত করে দিতে পারে, তাই শুধু লেখাপড়ায় শিক্ষিত নয় আমরা আমাদের পারিপার্শ্বিকতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মনকেও শিক্ষিত করি---- রোধ করি এ আধুনিক বাল্যবিবাহ।প্রতিটি বাবা-মায়ের স্বপ্ন তাঁদের সন্তানের সুখী জীবন।সে সুখ সন্তান নিজেই তৈরি করে নিতে পারবে যদি আমরা তাঁকে তা বোঝার পর্যাপ্ত সময় ও শিক্ষা দেই।
-------ইদানিং খুব দেখা যায় ১৩-১৬বছরের মেয়েরা বৌ হয়ে আসছে।এ আধুনিক যুগেও বাবা-মায়েরা তাঁদের ফুট ফুটে মেয়েগুলোকে বসিয়ে দিচ্ছে বিয়ে নামক এমন এক পিড়িতে যার জন্য সে মেয়েটির দেহ ও মন কোনটাই তৈরি নয়। তাঁর চোখ থেকে কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষিত হওয়ার, স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।যে চোখ স্বপ্ন দেখত অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার তাঁর দৃষ্টি সীমানা নির্দিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে,তাঁর দেখা রঙিন স্বপ্নগুলোর উপর টেনে দেয়া হচ্ছে কালোচাদরের পর্দা। কারো বরের বয়স হয়তো তাঁর সাথে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, অধিকাংশই বয়সের পার্থক্য অনেক বেশি। নিজের ভার বহনের ক্ষমতা অর্জনের আগেই তাঁর উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে পুরো একটি পরিবারের কয়েকজনকে নিয়ে ভাববার ভার। শুনেছি এখন বিদেশ থেকে শিক্ষিত ছেলেরাও নাকি দেশে গিয়ে অল্পবয়সের মেয়ে খোঁজে।আমি এমন কয়েকজন শ্বাশুরির সাথে কথা বলে জানতে চেয়েছি এর কারণ কি? তাঁরা উত্তরে বললেন ছোট মেয়েদের নাকি নিজেদের মতো গড়ে নেয়া যায়।আবার তাঁদেরই অন্যসময় বলতে শুনেছি বৌ শুধু ঘুরে বেড়ায়, ঘরের কোন খবর রাখেনা,খবর রাখবে কিভাবে? তাঁদের সময়টাই এখন রঙিন রঙিন সব স্বপ্নের সাথে নিজেকে রাঙাবার।শিক্ষিত ছেলেদের কথা বলতে পারবনা।তাঁদের শিক্ষা হয়তো এর ব্যাখ্যা দিতে পারবে।এমন অনেক পুরুষকে দেখেছি খুব প্রফুল্লচিত্তে বৌয়ের বয়সের কথা বলতে এবং তাঁকে খুব গর্বিত মনে হত অল্প বয়সের মেয়েকে বিয়ে করে।যাই হোক সে শাশুড়ীদের একসময় আক্ষেপ করতে দেখেছি তাঁর বৌটা ছেলে নিয়ে আলাদা হতে চায়। একটি মেয়ে তৈরি হবার আগেই তাঁর উপর চাপিয়ে দেয়া হয় এমন দায়িত্ব যা বোঝার এবং বহন করার দৈহিক ও মানসিক পরিপক্কতা ও শিক্ষা কোনটাই সে অর্জন করতে পারেনি।তার উপর বয়সে বড় ছেলের সাথে বিয়ে হওয়ায় ছেলের বাবা-মায়েরচাপ থাকে সন্তান নেয়ার।,এতো ছোট বয়সের শরীর যা কোনভাবেই প্রস্তুত নয়।তাই সন্তানধারনের পর সে বুঝে পায়না কিভাবে নিজেকে সামলাবে, সংসার পারিপার্শ্বিকতা সব কিছু তাঁর কাছে অনেক বেশি অসহনীয় মনে হয়। তাই তাঁর অপরিপক্ক জ্ঞান তাকে উদ্বুদ্ধ করে সব ঝামেলা ছেড়ে আলাদা নিজের মতো থাকার সিদ্ধান্ত নিতে। অন্যদিকে হাসিখুশি, উচ্ছল মেয়েটি দিন দিন অপ্রত্যাশিত মানসিক চাপ আর শারীরিক দুর্বলতার কারণে নিষ্প্রভ হতে থাকে।শুরুতে অনেক মেয়েদের দেখা যায় খুব হাসিখুশি কিন্তু ধারাবাহিকভাবে যখন সংসার -সন্তানের প্রতি দায়িত্ব বাড়তে থাকে অপরিপক্কতা আর যথাযথ শিক্ষার অভাবে ক্লান্ত জীবন নিয়ে মায়ের কাছে নানা অভিযোগ করতে।অপরদিকে যেসব ছেলেরা বিয়ের উপযোগী ও যথাযথ শিক্ষাপ্রাপ্ত মেয়ে বিয়ে করেছে তাঁদের দেখেছি সংসার-সন্তানের সব দায়িত্ব মেয়েটি সুন্দরভাবে সেরে নিচ্ছে নিজজ্ঞানে,ছেলেটিকে ভাবতে হচ্ছেনা মেয়েটি পারবে কিনা।
------ মেয়েদেরর জীবনের এ অবস্থার জন্য কাকে দায়ী করব? সে বাবা- মাকে? যে মা জন্মদেয়ার কষ্ট থেকে শুরু করে তাকে ১৩ বছর লালন করেছে পরম মমতায়। সে কিভাবে পারে মেয়েকে এমন এক নিষ্প্রাণ জীবন উপহার দিতে? আর কেউ না জানলেও একজন মাতো জানবেন তাঁর মেয়েটি কতটুকু ভার বহনের উপযুক্ত,নাকি দায়ী করব সে ছেলের বাবা মাকে যিনি নিজের মতো করে মেয়েটির মনকে পরিচালিত করবেন বলে একটা বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে আসেন গড়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে।--- এতো কিছু দেখার পরও অহরহ এমন উদাহরণের শেষ নেই।নিজের মেয়েটির বয়স ১৩। দেখি আর ভাবি এও সম্ভব? এ মেয়ে এখনো নিজেকে গোছাতে পারেনা,নিজের বুদ্ধিতে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা, সে কিভাবে একটি পরিবার গোছাবে? যে দায়িত্ব কি তাই বুঝে উঠতে পারলনা সে কিভাবে সংসার, সন্তানের দায়িত্ব নেবে?তাঁর হাসিখুশি,স্বপ্নিল জীবনকে কিভাবে আমি মা হয়ে শেষ করে দিব?মেয়েটির মুখ দেখে এ কথাগুলো ভাবলে বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠে। আমারই ছোট একটি ভুল সিদ্ধান্ত আমার এতো কষ্টে গড়া আদরের মেয়েটির জীবন অভিশপ্ত করে দিতে পারে, তাই শুধু লেখাপড়ায় শিক্ষিত নয় আমরা আমাদের পারিপার্শ্বিকতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মনকেও শিক্ষিত করি---- রোধ করি এ আধুনিক বাল্যবিবাহ।প্রতিটি বাবা-মায়ের স্বপ্ন তাঁদের সন্তানের সুখী জীবন।সে সুখ সন্তান নিজেই তৈরি করে নিতে পারবে যদি আমরা তাঁকে তা বোঝার পর্যাপ্ত সময় ও শিক্ষা দেই।

No comments