Header Ads

হালাল حلال

ইউরোপে কোনো মুদি দোকান, কফি শপ কিংবা রেস্টুরেন্টে ঢুকলেই চোখে পড়ে অ্যালকোহল কিংবা শুকরের মাংস। এটাই এখানকার সংস্কৃতি।

কিন্তু আমরা, বাংলাদেশি মুসলমানেরা ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকে এসব থেকে দূরে থাকি। তাই ইউরোপে আমাদের অনেকেই ‘হালাল ব্যবসা’র জন্য এসব বাদ দিয়ে নিজে দোকান, ক্যাফে, রেস্তোরাঁ চালাই।

এই কয়েক বছরে স্পেনে  হালাল ব্যবসা করা অনেক প্রবাসী ভাইয়ের দেখেছি। তাদের মধ্যে কারও কারও আচরণ দেখে প্রশ্ন জেগেছে কয়েকটা হারাম পণ্য না থাকলেই কি সব কিছু হালাল হয়ে যায়?


এই যে গতকাল ঈদ উল আযহা গেলো, ‘হালাল’ দোকানে অনেক কর্মী ঈদের দিনও কাজ করেছেন। কেউ কেউ হয়তো গত কয়েক বছর ধরেই ঈদে ছুটি পাননি। বাঙালি হালাল প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।

ইউরোপীয়দের নিজস্ব ছুটি তো বাদ, ঈদের ছুটি বা মুসলমানদের ধর্মীয় দিবসের ছুটির চিন্তা করতে গেলেও বাঙালি মুসলমান হালাল ব্যবসায়ীদেল কষ্ট হয়। কিন্তু তাদের ব্যবসা হালাল।

ইউরোপে সরকার ঘোষিত ছুটির দিনে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকে। এমনকি কোনো রেস্তোরাঁ খোলা থাকলেও পরে কর্মীদের সমপরিমাণ ছুটি দেওয়া হয়।

অনেকেই জানেন, ইউরোপে কাজ মানেই লিখিত চুক্তি। এতে কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত হয় নিয়মিত ছুটি, ন্যূনতম মজুরি, ওভারটাইম, উৎসব ভাতা সবই আইনি সুরক্ষায় আসে। অথচ বেশ কিছু বাঙালি হালাল দোকানে ‘চুক্তিপত্র চাইলে’ বলা হয়, “কত তালবাহানা "।

ইউরোপে কর্মীদের বেসিক স্যালারিতে দিনে কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা। ইউরোপীয়দের হারাম প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে দিনে ৮ ঘণ্টাই কাজ। এর বেশি সময় কাজ করলে পাবেন ওভারটাইম স্যালারি। বাঙালি মুসলমানদের হালাল প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টার ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে ১২/১৪ ঘণ্টা সময় লাগে। আর ওভারটাইমের জন্য আলাদা মজুরি চাইলে আপনার যে গুনাহ হবে তার জন্য চাকরি থাকবে না। হালাল ব্যবসায়ী মুসলিম ভাইকে বলবেন, “জেনে শুনেই তো কাজে আসছেন, আর কেউ জোর করে তো রাখে নাই!”

আরেকটা বিষয় প্রতিদিন মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ফেলে দেয় ইউরোপীয় দোকান। কিন্তু অনেক ‘হালাল দোকানে’ দেখা যায়, ঘষামাজা করে আবার বিক্রি চলছে। কিছু বললে উত্তর "ভাই, কি যে বলেন, খাওন ঠিক আছে।”

কিছুদিন আগে যে স্পেনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলো বাঙালি মুসলমানদের হালাল ব্যবসায়ে সুযোগ বুঝে পানির দাম বাড়াতে দেরি করেনি।

একটা সত্য ঘটনা বলি—

আমি একজনকে জানি, সে টানা দুই বছর একটা দোকানে কাজ করেছে। কোনোদিন বেসিক স্যালারি পায়নি। ঈদের ছুটি দূরের কথা, সপ্তাহে একদিনও বিশ্রাম মেলেনি। সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা, দুপুরে ১০ মিনিটে খেয়ে নেয়।

এটা একমাত্র ঘটনা নয়। ইউরোপে আরও অনেক ভাই আছেন, যারা এসব কষ্ট সয়ে যাচ্ছেন, শুধু চাকরিটা যাবে এই ভয়েই কিছু বলছেন না।

তাই প্রশ্নটা উঠেই যায়—

শুধু অ্যালকোহল আর শুকরের মাংস বিক্রি না করলেই কি কোনো ব্যবসা হালাল হয়ে যায়?

কর্মচারীদের অধিকার হরণ করে, ধর্মীয় উৎসবেও ছুটি না দিয়ে, ন্যায্য মজুরি না দিয়ে এভাবে হালাল ব্যবসা হয়?

আমি কাউকে আঘাত করতে চাই না। কিন্তু এই কথাগুলো বলা দরকার ছিল। আপনি যদি ইউরোপে এমন কোনো হালাল প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, যেখানে ঈদের দিন ছুটি পাননি, চুক্তিপত্র নেই, বোনাস তো দূরের কথা একটা ভালো ব্যবহারের অভাবও আছে তাহলে দয়া করে নিচে মন্তব্য করুন। আপনার মতামত মূল্যবান।

আসুন, আমরা শুধু ব্যবসাকে নয়, আমাদের আচরণকেও হালাল করি। পরিবর্তনের শুরু হোক সত্য উচ্চারণ থেকে।

No comments

Powered by Blogger.