শাড়ী
* শাড়ী*
------------তাহমিনা নাহার।
২৯--৫-২০১৮
-----------------------
* যুথীর খুব পছন্দের ড্রেস শাড়ী, পড়েও সুন্দর ভাবে। খুব যে দামী শাড়ী কিনে তাও নয়। মুটামুটি দাম দিয়ে কিনলেও যুথীর গায়ে ওঠে শাড়ীর সৌন্দর্য বেড়ে যায়, তখন যুথীকে দেখলে ভাবনায় পড়ে যেতে হয়, কে বেশী সুন্দর, যুথী নাকি শাড়ী?
মেয়েটার মা, বাবা নেই সেই ছোটকাল থেকেই। চাচার সংসারে বড়ো হয়েছে। খুব রুচীশীল মেয়ে যুথী। চাচাতো ভাইবোনদের সাথে ভালো সমজোতা আছে, নিম্নমধ্যবিত্ত সংসারে চাচী নিজের সন্তানদের সাথে যুথীকেও বড়ো করেছে মমতা দিয়ে। লেখাপড়াও যুথী ভালো ছিলো। দেখতে ভালো ছিলো, মার্জিত রুচির মেয়েটাকে অনেক ছেলেরা প্রেমের প্রস্তাব দিতো, সে এসবের ধার ধারতোনা। পড়াশুনা, টিউশনি, চাচাতো ভাইবোনকে পড়াশুনায় সাহায্য করা নিয়ে তার সময় ভালো কেটে যেতো। টিউশনি করে সে বিশ, পঁচিশ হাজার টাকা পেতে, চাচার সংসার খরচে যুথী সাহায্য করতো কিছুটা। সেজন্য চাচীর প্রিয় পাত্রীও ছিলো যুথী। একসময় এম, এ পাশ করলো সে, একটা চাকরী হলো তার, সেখানে পরিচয় হলো নাভিদের সাথে। নাভিদ যুথীর থেকে উপড়ের পোস্টে কাজ করে। পরিচয় থেকে ভালো লাগা, প্রেম। এ' দিকে যুথীর বিয়ের প্রস্তাব আসে চাচা,চাচীর কাছে ভালো ভালো। যুথী রাজী হয়না। একদিন চাচীর কাছে খুলে বলে নাভিদের কথা। চাচীর মনপুত: হয়না।
" তোর জন্য আরো ভালো বিয়ের প্রস্তাব আসে, এই ছেলে তোর উপযুক্ত নয়। বর্তমানে একটা প্রস্তাব আছে, ছেলে আমেরিকা প্রবাসী, ছেলে দেখতে ভালো, পরিবারও ভালো। ভাবছি----
" চাচী, আমার কথা ভাবো। আমি নাভিদকে ভালোবাসি। আমেরিকা প্রবাসী ছেলে আমার দরকার নেই।
" তোর কথা ভাবছি বলেই তো বলছি।
" না চাচী, বিয়ে করলে নাভিদকেই করবো।
চাচী মনক্ষুন্ন হলেও রাজী হয়, চাচাকে বলে। হাজার হোক নিজের মেয়েতো নয়। উনিশ থেকে বিশ হলেই লোকে বলবে,
" নিজের মেয়েতো নয়, তাই জোর করে বিয়ে দিলো।"
সুখী যদি না হয়, যুথীর কাছেও চাচী অপরাধী থেকে যাবে চিরকাল।
--- বিয়েটা হলো। নাভিদের চালচলনে চাচা, চাচীর সন্দেহ রইলোনা যে নাভিদ ছেলে ভালো। বিয়ের পর যুথী নাভিদের ফ্ল্যাটে চলে গেছে। রুচীশীল মেয়েটা নিজের হাতে ফ্ল্যাটটা সাজিয়ে নিয়েছে। বিয়ের পরও চাচীর সংসারের জন্য নিজের বেতনের একটা অংশ দেয়, নাভিদের তাতে কোন আপত্তি নেই।
-- তিনবছর হলো বিয়ে হয়েছে, বেশ ভালো আছে তারা। রুচীশীল শাড়ী কেনার শখটা আরো প্রখর হয়েছে। নাভিদও এখন যুক্ত হয়েছে শাড়ী কেনায়। কোন উপলক্ষ ছাড়াই নাভিদ মাঝে মাঝে শাড়ী কিনে নিয়ে আসে যুথীর জন্য। যুথী খুশী হয়ে তখনই শাড়ীটা পড়ে আয়নায় নিজেকে দেখে। যুথীর খুশীতে নাভিদ খুশী হয়।
সুখের অদুরে অসুখ দাঁড়িয়ে ব্যঙ্গ করে বুঝি!
একদিন যুথীর রিক্সা এক্সিডেন্ট হলো। পায়ের উপর দিয়ে গাড়ী গেছে তার। খবর পেয়ে নাভিদ হাসপাতালে গেলো। ডাক্তার তখন দিলো বড়ো দুঃসংবাদ টুকু, পায়ের উপর দিয়ে গাড়ী যাওয়ার ফলে পা দুটো জঘন্যভাবে জখম হয়েছে, অনেক চেষ্টা করেও রাখা যাচ্ছেনা। শুনে নাভিদের মনের অবস্থা কেমন হলো সে শুধু নাভিদ আর আল্লাহই জানে। এরপর আরেকটা ভাবনা, যুথী এখনো ঘুমে, জেগে ওঠলে তাকে সামলাবে কি করে!
দু'দিন পর যুথীর জ্ঞান ফিরে এলো। হাঁটুর নীচ অব্দি খুব অবশ লাগছে। চোখ মেলে দেখতে পেলো হাসপাতালের কামরায় নাভিদের সাথে চাচা, চাচীকে। ওঠে বসতে চাইলো। হাঁটুর নীচে হাত রেখে চিৎকার করে ওঠেছে। এর কি শান্তনা হয়! যারা শান্তনা দেবে তারাও অনবরত কেঁদে যাচ্ছে।
-- নিষ্টুর নিয়তি কেড়ে নিয়েছে রুচীশীল মেয়েটার শাড়ী পড়ার সখ। আজকাল হুইল চেয়ারে বসে থাকে। দুর্ভাগ্যের সাথে সমঝোতা করে নিয়েছে, হুইল চেয়ারে বসেই সংসারের অনেক কাজ করে, সাথে একজন বুয়া আছে। চেষ্টা করে জোর করে খুশী থাকতে, ঘুমটাও তেমন ভালো হয়না, ডাক্তারের পরামর্শে মাঝে মাঝে ঘুমের ঔষধ খায়। নাভিদ আস্তে আস্তে ঘরের আসবাব পত্রগুলো নীচু করে দিয়েছে, যেন যুথীর নাগালের মধ্যে থাকে। শাড়ীগুলোও নীচের তাকে রাখা হয়েছে। যুথী মাঝে মাঝে শাড়ীগুলোতে হাত বুলায়, এসব দেখে নাভিদের খুব কষ্ট হয়। একটা শাড়ী কিনতে খুব ইচ্ছে করে, কিনলে যুথীকে নতুন করে কষ্ট দেয়া হবে ভেবে আর কেনা হয়না।
-- নাভিদ যেন কেমন বদলে যাচ্ছে আজকাল। যুথী বুঝেও প্রতিবাদ করেনা, ভাবে,
" এটাইতো স্বাভাবিক, পঙ্গুত্ব নিয়ে এরচেয়ে বেশী আর কি আশা করতে পারি!
পঙ্গুত্ব নিয়ে কেটে গেলো যুথীর দুটো বছর, নাভিদ ইদানীং বেশ রাত করে বাসায় ফেরে। অপেক্ষায় থেকে থেকে যুথী একসময় ঘুমিয়ে যায়।
-- একদিন বৃষ্টির রাতে নাভিদের সাথে একটি সুন্দরী মেয়ে এলো বাসায়, ভেজা কাপড়ে। নাভিদ পরিচয় করিয়ে দিলো কলিগ বলে। নাভিদ একটা শাড়ী চাইলো মেয়েটার জন্য যুথীর কাছে। যুথী নিজের হাতে একটা শাড়ী বের করে দিলো মেয়েটির জন্য। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর মেয়েটিকে একটা কামরায় দিয়ে নাভিদ চলে এলো যুথীর কাছে। হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে গেলো যুথীর, দেখে নাভিদ পাশে নেই। দেয়াল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে রাত দুটো বাজে। আস্তে করে হুইলচেয়ারটা নিয়ে কামরার বাইরে এলো, মেয়েটির কামরা থেকে দু' জনের ফিসফিসানি শুনে যুথীর মাথা চক্কর দিচ্ছে। বন্ধ দরজায় হাত রাখতেই দরজাটা খুলে গেলো। ডিম লাইটের আলোতে দেখতে পেলো নাভিদ শুয়ে আছে মেয়েটির সাথে। যুথীকে এখানে দেখে দুজনই চমকে ওঠেছে। যুথী কিছু না বলে চেয়ার ঘুরিয়ে চলে যাচ্ছে দেখে নাভিদ সামনে এসে দাঁড়ায়,
" যুথী শোন, খারাপ কিছু ভেবোনা। আমি ওকে বিয়ে করেছি।
যুথী চেয়ে রইলো নাভিদের মুখের দিকে কয়েক সেকেন্ড, তারপর চলে গেলো নিজের কামরায়, দরজাটা বন্ধ করে দিলো। সে দরজা যুথী আর খোলেনি কখনো।
নাভিদ দরজা খোলার জন্য খুব অনুনয় করে নতুন বউয়ের কামরায় শুয়ে পড়েছে। পরদিন সকালবেলায়ও দরজা খুলছেনা যুথী, নাভিদ দরজা ভেঙ্গে ভেতরে গিয়ে দেখে যুথী ঘুমিয়ে আছে বিয়ের শাড়ীটা জড়িয়ে। বালিশে পাশে এক টুকরো কাগজ ভাঁজ করা, অন্যপাশে ঘুমের ঔষধের খালি পাতাটা। কাগজটা খুলে নাভিদ, লেখা আছে তাতে,
" সবগুলো শাড়ী ওকে দিও, যেটা আমি পড়ে আছি ওটা বাদে।।"
------------তাহমিনা নাহার।
২৯--৫-২০১৮
-----------------------
* যুথীর খুব পছন্দের ড্রেস শাড়ী, পড়েও সুন্দর ভাবে। খুব যে দামী শাড়ী কিনে তাও নয়। মুটামুটি দাম দিয়ে কিনলেও যুথীর গায়ে ওঠে শাড়ীর সৌন্দর্য বেড়ে যায়, তখন যুথীকে দেখলে ভাবনায় পড়ে যেতে হয়, কে বেশী সুন্দর, যুথী নাকি শাড়ী?
মেয়েটার মা, বাবা নেই সেই ছোটকাল থেকেই। চাচার সংসারে বড়ো হয়েছে। খুব রুচীশীল মেয়ে যুথী। চাচাতো ভাইবোনদের সাথে ভালো সমজোতা আছে, নিম্নমধ্যবিত্ত সংসারে চাচী নিজের সন্তানদের সাথে যুথীকেও বড়ো করেছে মমতা দিয়ে। লেখাপড়াও যুথী ভালো ছিলো। দেখতে ভালো ছিলো, মার্জিত রুচির মেয়েটাকে অনেক ছেলেরা প্রেমের প্রস্তাব দিতো, সে এসবের ধার ধারতোনা। পড়াশুনা, টিউশনি, চাচাতো ভাইবোনকে পড়াশুনায় সাহায্য করা নিয়ে তার সময় ভালো কেটে যেতো। টিউশনি করে সে বিশ, পঁচিশ হাজার টাকা পেতে, চাচার সংসার খরচে যুথী সাহায্য করতো কিছুটা। সেজন্য চাচীর প্রিয় পাত্রীও ছিলো যুথী। একসময় এম, এ পাশ করলো সে, একটা চাকরী হলো তার, সেখানে পরিচয় হলো নাভিদের সাথে। নাভিদ যুথীর থেকে উপড়ের পোস্টে কাজ করে। পরিচয় থেকে ভালো লাগা, প্রেম। এ' দিকে যুথীর বিয়ের প্রস্তাব আসে চাচা,চাচীর কাছে ভালো ভালো। যুথী রাজী হয়না। একদিন চাচীর কাছে খুলে বলে নাভিদের কথা। চাচীর মনপুত: হয়না।
" তোর জন্য আরো ভালো বিয়ের প্রস্তাব আসে, এই ছেলে তোর উপযুক্ত নয়। বর্তমানে একটা প্রস্তাব আছে, ছেলে আমেরিকা প্রবাসী, ছেলে দেখতে ভালো, পরিবারও ভালো। ভাবছি----
" চাচী, আমার কথা ভাবো। আমি নাভিদকে ভালোবাসি। আমেরিকা প্রবাসী ছেলে আমার দরকার নেই।
" তোর কথা ভাবছি বলেই তো বলছি।
" না চাচী, বিয়ে করলে নাভিদকেই করবো।
চাচী মনক্ষুন্ন হলেও রাজী হয়, চাচাকে বলে। হাজার হোক নিজের মেয়েতো নয়। উনিশ থেকে বিশ হলেই লোকে বলবে,
" নিজের মেয়েতো নয়, তাই জোর করে বিয়ে দিলো।"
সুখী যদি না হয়, যুথীর কাছেও চাচী অপরাধী থেকে যাবে চিরকাল।
--- বিয়েটা হলো। নাভিদের চালচলনে চাচা, চাচীর সন্দেহ রইলোনা যে নাভিদ ছেলে ভালো। বিয়ের পর যুথী নাভিদের ফ্ল্যাটে চলে গেছে। রুচীশীল মেয়েটা নিজের হাতে ফ্ল্যাটটা সাজিয়ে নিয়েছে। বিয়ের পরও চাচীর সংসারের জন্য নিজের বেতনের একটা অংশ দেয়, নাভিদের তাতে কোন আপত্তি নেই।
-- তিনবছর হলো বিয়ে হয়েছে, বেশ ভালো আছে তারা। রুচীশীল শাড়ী কেনার শখটা আরো প্রখর হয়েছে। নাভিদও এখন যুক্ত হয়েছে শাড়ী কেনায়। কোন উপলক্ষ ছাড়াই নাভিদ মাঝে মাঝে শাড়ী কিনে নিয়ে আসে যুথীর জন্য। যুথী খুশী হয়ে তখনই শাড়ীটা পড়ে আয়নায় নিজেকে দেখে। যুথীর খুশীতে নাভিদ খুশী হয়।
সুখের অদুরে অসুখ দাঁড়িয়ে ব্যঙ্গ করে বুঝি!
একদিন যুথীর রিক্সা এক্সিডেন্ট হলো। পায়ের উপর দিয়ে গাড়ী গেছে তার। খবর পেয়ে নাভিদ হাসপাতালে গেলো। ডাক্তার তখন দিলো বড়ো দুঃসংবাদ টুকু, পায়ের উপর দিয়ে গাড়ী যাওয়ার ফলে পা দুটো জঘন্যভাবে জখম হয়েছে, অনেক চেষ্টা করেও রাখা যাচ্ছেনা। শুনে নাভিদের মনের অবস্থা কেমন হলো সে শুধু নাভিদ আর আল্লাহই জানে। এরপর আরেকটা ভাবনা, যুথী এখনো ঘুমে, জেগে ওঠলে তাকে সামলাবে কি করে!
দু'দিন পর যুথীর জ্ঞান ফিরে এলো। হাঁটুর নীচ অব্দি খুব অবশ লাগছে। চোখ মেলে দেখতে পেলো হাসপাতালের কামরায় নাভিদের সাথে চাচা, চাচীকে। ওঠে বসতে চাইলো। হাঁটুর নীচে হাত রেখে চিৎকার করে ওঠেছে। এর কি শান্তনা হয়! যারা শান্তনা দেবে তারাও অনবরত কেঁদে যাচ্ছে।
-- নিষ্টুর নিয়তি কেড়ে নিয়েছে রুচীশীল মেয়েটার শাড়ী পড়ার সখ। আজকাল হুইল চেয়ারে বসে থাকে। দুর্ভাগ্যের সাথে সমঝোতা করে নিয়েছে, হুইল চেয়ারে বসেই সংসারের অনেক কাজ করে, সাথে একজন বুয়া আছে। চেষ্টা করে জোর করে খুশী থাকতে, ঘুমটাও তেমন ভালো হয়না, ডাক্তারের পরামর্শে মাঝে মাঝে ঘুমের ঔষধ খায়। নাভিদ আস্তে আস্তে ঘরের আসবাব পত্রগুলো নীচু করে দিয়েছে, যেন যুথীর নাগালের মধ্যে থাকে। শাড়ীগুলোও নীচের তাকে রাখা হয়েছে। যুথী মাঝে মাঝে শাড়ীগুলোতে হাত বুলায়, এসব দেখে নাভিদের খুব কষ্ট হয়। একটা শাড়ী কিনতে খুব ইচ্ছে করে, কিনলে যুথীকে নতুন করে কষ্ট দেয়া হবে ভেবে আর কেনা হয়না।
-- নাভিদ যেন কেমন বদলে যাচ্ছে আজকাল। যুথী বুঝেও প্রতিবাদ করেনা, ভাবে,
" এটাইতো স্বাভাবিক, পঙ্গুত্ব নিয়ে এরচেয়ে বেশী আর কি আশা করতে পারি!
পঙ্গুত্ব নিয়ে কেটে গেলো যুথীর দুটো বছর, নাভিদ ইদানীং বেশ রাত করে বাসায় ফেরে। অপেক্ষায় থেকে থেকে যুথী একসময় ঘুমিয়ে যায়।
-- একদিন বৃষ্টির রাতে নাভিদের সাথে একটি সুন্দরী মেয়ে এলো বাসায়, ভেজা কাপড়ে। নাভিদ পরিচয় করিয়ে দিলো কলিগ বলে। নাভিদ একটা শাড়ী চাইলো মেয়েটার জন্য যুথীর কাছে। যুথী নিজের হাতে একটা শাড়ী বের করে দিলো মেয়েটির জন্য। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর মেয়েটিকে একটা কামরায় দিয়ে নাভিদ চলে এলো যুথীর কাছে। হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে গেলো যুথীর, দেখে নাভিদ পাশে নেই। দেয়াল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে রাত দুটো বাজে। আস্তে করে হুইলচেয়ারটা নিয়ে কামরার বাইরে এলো, মেয়েটির কামরা থেকে দু' জনের ফিসফিসানি শুনে যুথীর মাথা চক্কর দিচ্ছে। বন্ধ দরজায় হাত রাখতেই দরজাটা খুলে গেলো। ডিম লাইটের আলোতে দেখতে পেলো নাভিদ শুয়ে আছে মেয়েটির সাথে। যুথীকে এখানে দেখে দুজনই চমকে ওঠেছে। যুথী কিছু না বলে চেয়ার ঘুরিয়ে চলে যাচ্ছে দেখে নাভিদ সামনে এসে দাঁড়ায়,
" যুথী শোন, খারাপ কিছু ভেবোনা। আমি ওকে বিয়ে করেছি।
যুথী চেয়ে রইলো নাভিদের মুখের দিকে কয়েক সেকেন্ড, তারপর চলে গেলো নিজের কামরায়, দরজাটা বন্ধ করে দিলো। সে দরজা যুথী আর খোলেনি কখনো।
নাভিদ দরজা খোলার জন্য খুব অনুনয় করে নতুন বউয়ের কামরায় শুয়ে পড়েছে। পরদিন সকালবেলায়ও দরজা খুলছেনা যুথী, নাভিদ দরজা ভেঙ্গে ভেতরে গিয়ে দেখে যুথী ঘুমিয়ে আছে বিয়ের শাড়ীটা জড়িয়ে। বালিশে পাশে এক টুকরো কাগজ ভাঁজ করা, অন্যপাশে ঘুমের ঔষধের খালি পাতাটা। কাগজটা খুলে নাভিদ, লেখা আছে তাতে,
" সবগুলো শাড়ী ওকে দিও, যেটা আমি পড়ে আছি ওটা বাদে।।"

No comments