আমাদের বিশ্বকাপ উন্মাদনা
রাসিয়ার মস্কোতে পিএইচডি করতে আসা ঘনিষ্ট বন্ধু আদনান গেল সপ্তাহে হঠাৎ কল করে বসলো । কুশল বিনিময়ের পর দুজনের ফোনালাপের প্রায় আশি ভাগ কথা সে একাই বলে গেলো । তার সাথে যখনই কথা হয় আমি ইচ্ছে করেই তাকে স্পেস দিই যাতে সে জমিয়ে থাকা সবগুলো কথা নিশ্চিন্তে আমার সাথে শেয়ার করতে পারে ।এবার আমার সাথে তার কথা বলার শুরুটাই হলো নিরব অভিমান দিয়ে । কারণঃ এর আগে সে যত বারই আমাকে মস্কো যাওয়ার আমন্ত্রন করেছে, আমি বলেছি, বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষ্যে যাবো । সে এতদিন এই আশায় ছিল যে, অন্তত বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষ্যে হলেও আমি রাশিয়া গেলে তার সাথে দেখা হবে । কিন্তু, শেষ পর্যন্ত যখন যেতে পারলাম না তখন সে একটু অভিমান করবে এটাই স্বাভাবিক । আমি আমার অপারগতার কারণ দেখিয়ে কৌশলে তার অভিমান ভাঙ্গিয়ে তাকে সহজ করে রাশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও বিশ্বকাপ ফুটবলের ব্যাপারে জানতে চাইলাম । সে জানালো, রাশিয়ার বর্তমান আবহাওয়া বেশ চমৎকার । যত দিন যাবে সামার ঘনিয়ে আসবে আর অন্যরকম হয়ে যাবে মস্কোর অলিগলি ।মস্কো একেক সময় একেক চেহারায় নিজেকে মেলে ধরে ।শীতের মস্কো আর গ্রীষ্মের মস্কোর মাঝে পার্থক্য আকাশ পাতাল । বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে পৃথিবীর নানান প্রান্ত থেকে পর্যটক ও ফুটবল প্রেমীরা ছুটে আসছেন মস্কোতে । মস্কোর অলি গলি, বিভিন্ন পর্যটন স্থাপনা, হোটেল, ক্লাব, বার, সব কিছুই সেজেছে বর্ণিল সাজে । বিশ্বকাপ আয়োজনে সরকারী অবকাটামোগত উন্নয়নও চোখে পড়ার মতো । সব মিলিয়ে, এই মুহুর্তে মস্কো আলো ঝলমলে এক স্বপ্নীল নগরী ।
বললাম, বুঝতে পারছি তোর মস্কো এই মুহুর্তে দু’বাহু প্রসারিত করে পৃথিবীকে আলিঙ্গনের অপেক্ষায় । আমি জানতে চাচ্ছি, ফুটবল উন্মাদনা বলতে যা বুঝায় তার সঠিক চিত্রটি এই মুহুর্তে কেমন?
সে বললো, আসলে উন্মাদনা বলতে কোন শব্দ বা পরিবেশ এখানে নেই । ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ রাশিয়া এবং তারা নিজেরাও বিশ্বকাপ খেলবে তারপরও তাদের মাঝে কোন উন্মাদনা নেই । আছে শুধু খানিকটা প্রাণ চাঞ্চল্য ও আনন্দ । এর বেশী কিছু না ।
মনে হয়, বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা আমাদের দেশের মানুষ ও গণমাধ্যমে যেমনটি দেখা যায় পৃথিবীর আর কোথাও তেমনটি হয় কি না সন্দেহ ! আমাদের দেশে প্রতিটি বাড়ি বাড়িতে নিজ নিজ সমর্থিত দেশের পতাকা, দেয়ালে দেয়ালে রঙের তুলিতে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা অন্য কোন দেশের পতাকা যেভাবে শোভা পায় স্বয়ং আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলেও তা দেখা যায় না ! তাছাড়া, নিজ নিজ সমর্থকদের মাঝে মারামারি, হানাহানি, জুয়া, বাজি তো আছেই । খেলা দেখতে মানুষ অবলীলায় নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দেবে টিভি সেটের সামনে বসে । ঝড় উঠবে চায়ের কাপের আড্ডায় । কিন্তু, পরিতাপের বিষয় হলঃ বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগ করতে দেশের মানুষের মাঝে যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উন্মাদনা কাজ করে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সে উদ্দীপনা ও উন্মাদনা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যায় । দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার ন্যায় কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়না । দেশের ফুটবল যেই তিমিরে আছে সেই তিমিরেই পড়ে থাকে ।
কথাগুলো বলতে বলতে এক পর্যায়ে সে আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফোন রেখে দিলো । আমি বুঝতে পারলাম সে কিছুটা ইমোশনাল হয়ে গেছে । কোন কারনে সে ইমোশনাল হলেই কেবল কথার মাঝে ফোন রেখে দেয় ।
এদিকে আমাদের ফোনালাপ শেষ হলেও আদনানের কথাগুলো যেন এখনও আমার কানে ভাসছে আর অন্যদিকে চোখে ভাসছে স্পেনের বিশ্বকাপ ফুটবল জয়ের স্মৃতি । বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে মানুষের মাঝে কিছুটা আনন্দ দেখা গেলেও পুরো স্পেনের পরিবেশ ছিল বেশ স্বাভাবিক । মানুষের মাঝে বাড়তি কোন উদ্দীপনা বা উন্মাদনা ছিলনা । ছিলনা গণমাধ্যমের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি । সকাল হতেই প্রতিদিনকার মতো কর্মচঞ্চল প্রতিটি মানুষের ভিড় ছিল যানবাহনে । সরকারী ছুটি ঘোষনা সেতো বহুত দূর কী বাত!
উদার গণতান্ত্রিক উন্নত বিশ্ব বলতে সাধারণত আমরা ইউরোপ আমেরিকাকে জানি । কিন্তু, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এসব গণতান্ত্রিক দেশের অনেক দেশই তাদের প্রিন্টিং ও স্যাটেলাইট মিডিয়ায় ক্রিকেটের কোন খবর বা সম্প্রচার সরকারীভাবে নিষিদ্ধ করে রেখে দিয়েছে । কারণঃ তারা চায়না তাদের ফুটবলের জায়গাটা অন্য কোন খেলা এসে দখল করুক !
কথা হল, দেশের তরুন প্রজন্ম তোমরা যারা এখনি নিজ নিজ ফেভারিট দেশের পতাকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে হানাহানি, মুল্যবান সময় ও অর্থের অপচয় করছো, একবারও কি ভেবে দেখেছো তাতে তোমাদের বা বাংলাদেশের কি কোন উন্নতি হচ্ছে? খেলাধুলার বিপক্ষে আমি নই । সুস্থ্য দেহ সুস্থ্য জীবন পেতে খেলাধুলার বিকল্প নেই । কিন্তু, বিশ্বকাপে ফেভারিট দেশের পতাকা নিয়ে অতিরিক্ত হৈচৈ করাতো তোমাদের কাজ না । তোমরা লাল সবুজের পতাকা বহন করতে প্রস্তুতি নেবে । বিশ্ব মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে বাংলাদেশের । ভিনদেশী মোহ ও ঝঞ্জাট থেকে বেরিয়ে তোমার হাতে পত পত করে উড়ুক লাল সবুজের বিজয় নিশান, এই হোক তোমাদের প্রত্যয় ।
#এখলাছ মিয়া
বার্সেলোনা
বললাম, বুঝতে পারছি তোর মস্কো এই মুহুর্তে দু’বাহু প্রসারিত করে পৃথিবীকে আলিঙ্গনের অপেক্ষায় । আমি জানতে চাচ্ছি, ফুটবল উন্মাদনা বলতে যা বুঝায় তার সঠিক চিত্রটি এই মুহুর্তে কেমন?
সে বললো, আসলে উন্মাদনা বলতে কোন শব্দ বা পরিবেশ এখানে নেই । ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ রাশিয়া এবং তারা নিজেরাও বিশ্বকাপ খেলবে তারপরও তাদের মাঝে কোন উন্মাদনা নেই । আছে শুধু খানিকটা প্রাণ চাঞ্চল্য ও আনন্দ । এর বেশী কিছু না ।
মনে হয়, বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা আমাদের দেশের মানুষ ও গণমাধ্যমে যেমনটি দেখা যায় পৃথিবীর আর কোথাও তেমনটি হয় কি না সন্দেহ ! আমাদের দেশে প্রতিটি বাড়ি বাড়িতে নিজ নিজ সমর্থিত দেশের পতাকা, দেয়ালে দেয়ালে রঙের তুলিতে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা অন্য কোন দেশের পতাকা যেভাবে শোভা পায় স্বয়ং আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলেও তা দেখা যায় না ! তাছাড়া, নিজ নিজ সমর্থকদের মাঝে মারামারি, হানাহানি, জুয়া, বাজি তো আছেই । খেলা দেখতে মানুষ অবলীলায় নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দেবে টিভি সেটের সামনে বসে । ঝড় উঠবে চায়ের কাপের আড্ডায় । কিন্তু, পরিতাপের বিষয় হলঃ বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগ করতে দেশের মানুষের মাঝে যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উন্মাদনা কাজ করে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সে উদ্দীপনা ও উন্মাদনা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যায় । দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার ন্যায় কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়না । দেশের ফুটবল যেই তিমিরে আছে সেই তিমিরেই পড়ে থাকে ।
কথাগুলো বলতে বলতে এক পর্যায়ে সে আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফোন রেখে দিলো । আমি বুঝতে পারলাম সে কিছুটা ইমোশনাল হয়ে গেছে । কোন কারনে সে ইমোশনাল হলেই কেবল কথার মাঝে ফোন রেখে দেয় ।
এদিকে আমাদের ফোনালাপ শেষ হলেও আদনানের কথাগুলো যেন এখনও আমার কানে ভাসছে আর অন্যদিকে চোখে ভাসছে স্পেনের বিশ্বকাপ ফুটবল জয়ের স্মৃতি । বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে মানুষের মাঝে কিছুটা আনন্দ দেখা গেলেও পুরো স্পেনের পরিবেশ ছিল বেশ স্বাভাবিক । মানুষের মাঝে বাড়তি কোন উদ্দীপনা বা উন্মাদনা ছিলনা । ছিলনা গণমাধ্যমের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি । সকাল হতেই প্রতিদিনকার মতো কর্মচঞ্চল প্রতিটি মানুষের ভিড় ছিল যানবাহনে । সরকারী ছুটি ঘোষনা সেতো বহুত দূর কী বাত!
উদার গণতান্ত্রিক উন্নত বিশ্ব বলতে সাধারণত আমরা ইউরোপ আমেরিকাকে জানি । কিন্তু, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এসব গণতান্ত্রিক দেশের অনেক দেশই তাদের প্রিন্টিং ও স্যাটেলাইট মিডিয়ায় ক্রিকেটের কোন খবর বা সম্প্রচার সরকারীভাবে নিষিদ্ধ করে রেখে দিয়েছে । কারণঃ তারা চায়না তাদের ফুটবলের জায়গাটা অন্য কোন খেলা এসে দখল করুক !
কথা হল, দেশের তরুন প্রজন্ম তোমরা যারা এখনি নিজ নিজ ফেভারিট দেশের পতাকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে হানাহানি, মুল্যবান সময় ও অর্থের অপচয় করছো, একবারও কি ভেবে দেখেছো তাতে তোমাদের বা বাংলাদেশের কি কোন উন্নতি হচ্ছে? খেলাধুলার বিপক্ষে আমি নই । সুস্থ্য দেহ সুস্থ্য জীবন পেতে খেলাধুলার বিকল্প নেই । কিন্তু, বিশ্বকাপে ফেভারিট দেশের পতাকা নিয়ে অতিরিক্ত হৈচৈ করাতো তোমাদের কাজ না । তোমরা লাল সবুজের পতাকা বহন করতে প্রস্তুতি নেবে । বিশ্ব মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে বাংলাদেশের । ভিনদেশী মোহ ও ঝঞ্জাট থেকে বেরিয়ে তোমার হাতে পত পত করে উড়ুক লাল সবুজের বিজয় নিশান, এই হোক তোমাদের প্রত্যয় ।
#এখলাছ মিয়া
বার্সেলোনা

No comments