হারানো সীমান্ত
বিকেলের সূর্যটা ক্লান্ত হয়ে আকাশের ওপারে হারিয়ে গেলে
উত্তরে মুখ করে দাঁড়াই,
ক্রমশ ঘনায়মান আঁধারে তাকিয়ে থাকি দিগন্তে,
ঝাপসা আকাশ যেখানে মিশেছে কালো মাটিতে।
ওখানেই কোথাও সীমান্ত;
বন্ধুর মরু, বিষাক্ত জলাভূমি আর অবিন্যস্ত পাহাড় শেষে-
আদিগন্ত ঘূর্ণায়মান জলরাশি পেরিয়ে
যেতে হয় সংকীর্ণ লুপ্তপ্রায় এক গিরিপথ ধরে।
সীমান্তের একমাত্র পথচিহ্ন রুপকথার রহস্যঘেরা এক আলোকস্তম্ভ,
শৈশবের মত ধোঁয়াটে সেই লাইটহাউজ।
পৃথিবী কালো হয়ে গেলে পর কখনো জ্বলে উঠে হঠাৎ,
পথ চেনায় হারানো পথিকের।
কেউ জানেনা কখন জ্বলবে সেই আগুন,
শেষবার কে দেখেছে তাও আজ বিস্মৃত।
প্রতি সন্ধ্যায় সীমান্ত পেরুবার দৃঢ় প্রত্যয়ে
আমি তাকিয়ে থাকি অন্ধকার দিগন্তে;
অস্তচাঁদ অবধি স্থির তাকিয়ে থাকি,
যদি জ্বলে উঠেই নিভে যায় পূর্বাশার আলো।
যদি হারিয়ে যায় চিরতরে বিস্মৃতির অতলে,
যেভাবে হারায় সব অথবা হারিয়েছি আমি।
হয়তো আরও শত উৎসুক চোখের দৃষ্টি
খুঁজে ফেরে দিগন্তের আঁধার, হয়তো আমারি মতো।
দাঁড়িয়ে থাকে ভাষাহীন, হিম আকাশের নিচে
প্রচণ্ড তুষার ঝড়ে অথবা তারাজ্বলা বিষুব রাতে।
কি আছে সেখানে, সীমান্তের ওপারে?
কিসের জন্য এতো হাহাকার, নিরন্তর রাতজাগা প্রতীক্ষা?
কেউ বলে স্বর্গ কারো কাছে বাড়ি
কারো বা ছেলেবেলার দুপুর, একঝাঁক উত্তমাশা।
মিলবে যা কিছু চাই, না পাওয়া কিংবা চলে যাওয়া সব।
কিন্তু কি নেবো আমি? হারানো ভালোবাসা, আঁচলতলের উত্তাপ,
পাতার বাঁশি- বৃষ্টিজলে কাগজের নৌকা?
নাকি ধীরে বয়ে চলা ডাকাতীয়া,
ছিপজালে লেগে থাকা জলকণায় রোদের ঝিলিক- ডাহুকের পালক?
অথবা ঝিঁঝিঁ রাতে নৌকার পাটাতনে শুয়ে থাকা অবারিত আকাশ,
পেঁচার ডাকের ভূতুড়ে ছায়া?
হয়তোবা সব দূরাশা।
ফিরবো ক্লান্ত একাকী,
মরে যাওয়া তালগাছের নিচে পঙ্কিল কাদাপথে।
জানি অপেক্ষায় থাকবেনা দখিনের জানালা,
দলিজায় শীতল পাটি, টিনের গ্লাসে জল, নারকেল মুড়ি।
মিলবে পরাজিত প্রেম,
মেঘনার ভাঙা পাড়ে বেরিরে থাকা মৃত বটের শেকড়,
স্বজনের কালো হাড়।
তবুও বিষণ্ণ দিনের শেষে
সব আলো থেমে গেলে পর থাকবো দাঁড়িয়ে-
অস্তচাঁদ অবধি যুগান্তর।
শকুনের মতো অবিচল চোখ খুঁজে ফিরবে দিগন্তের আগুনে আলো,
ভালোবাসা প্রিয়মুখ, হারানো স্বজন, আমার হারানো সীমান্ত।।
--
সিডনী
নিউ সাউথ ওয়েলস
উত্তরে মুখ করে দাঁড়াই,
ক্রমশ ঘনায়মান আঁধারে তাকিয়ে থাকি দিগন্তে,
ঝাপসা আকাশ যেখানে মিশেছে কালো মাটিতে।
ওখানেই কোথাও সীমান্ত;
বন্ধুর মরু, বিষাক্ত জলাভূমি আর অবিন্যস্ত পাহাড় শেষে-
আদিগন্ত ঘূর্ণায়মান জলরাশি পেরিয়ে
যেতে হয় সংকীর্ণ লুপ্তপ্রায় এক গিরিপথ ধরে।
সীমান্তের একমাত্র পথচিহ্ন রুপকথার রহস্যঘেরা এক আলোকস্তম্ভ,
শৈশবের মত ধোঁয়াটে সেই লাইটহাউজ।
পৃথিবী কালো হয়ে গেলে পর কখনো জ্বলে উঠে হঠাৎ,
পথ চেনায় হারানো পথিকের।
কেউ জানেনা কখন জ্বলবে সেই আগুন,
শেষবার কে দেখেছে তাও আজ বিস্মৃত।
প্রতি সন্ধ্যায় সীমান্ত পেরুবার দৃঢ় প্রত্যয়ে
আমি তাকিয়ে থাকি অন্ধকার দিগন্তে;
অস্তচাঁদ অবধি স্থির তাকিয়ে থাকি,
যদি জ্বলে উঠেই নিভে যায় পূর্বাশার আলো।
যদি হারিয়ে যায় চিরতরে বিস্মৃতির অতলে,
যেভাবে হারায় সব অথবা হারিয়েছি আমি।
হয়তো আরও শত উৎসুক চোখের দৃষ্টি
খুঁজে ফেরে দিগন্তের আঁধার, হয়তো আমারি মতো।
দাঁড়িয়ে থাকে ভাষাহীন, হিম আকাশের নিচে
প্রচণ্ড তুষার ঝড়ে অথবা তারাজ্বলা বিষুব রাতে।
কি আছে সেখানে, সীমান্তের ওপারে?
কিসের জন্য এতো হাহাকার, নিরন্তর রাতজাগা প্রতীক্ষা?
কেউ বলে স্বর্গ কারো কাছে বাড়ি
কারো বা ছেলেবেলার দুপুর, একঝাঁক উত্তমাশা।
মিলবে যা কিছু চাই, না পাওয়া কিংবা চলে যাওয়া সব।
কিন্তু কি নেবো আমি? হারানো ভালোবাসা, আঁচলতলের উত্তাপ,
পাতার বাঁশি- বৃষ্টিজলে কাগজের নৌকা?
নাকি ধীরে বয়ে চলা ডাকাতীয়া,
ছিপজালে লেগে থাকা জলকণায় রোদের ঝিলিক- ডাহুকের পালক?
অথবা ঝিঁঝিঁ রাতে নৌকার পাটাতনে শুয়ে থাকা অবারিত আকাশ,
পেঁচার ডাকের ভূতুড়ে ছায়া?
হয়তোবা সব দূরাশা।
ফিরবো ক্লান্ত একাকী,
মরে যাওয়া তালগাছের নিচে পঙ্কিল কাদাপথে।
জানি অপেক্ষায় থাকবেনা দখিনের জানালা,
দলিজায় শীতল পাটি, টিনের গ্লাসে জল, নারকেল মুড়ি।
মিলবে পরাজিত প্রেম,
মেঘনার ভাঙা পাড়ে বেরিরে থাকা মৃত বটের শেকড়,
স্বজনের কালো হাড়।
তবুও বিষণ্ণ দিনের শেষে
সব আলো থেমে গেলে পর থাকবো দাঁড়িয়ে-
অস্তচাঁদ অবধি যুগান্তর।
শকুনের মতো অবিচল চোখ খুঁজে ফিরবে দিগন্তের আগুনে আলো,
ভালোবাসা প্রিয়মুখ, হারানো স্বজন, আমার হারানো সীমান্ত।।
--
সিডনী
নিউ সাউথ ওয়েলস

No comments