সম্পর্ক এবং স্বার্থ
সম্পর্ক এবং স্বার্থ দুটি খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত। আদমের স্বার্থে সৃষ্টিকর্তা হাওয়াকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন, আবার হাওয়ার স্বার্থে আদমকে। আর এর মধ্যে সৃষ্টিকর্তা স্বার্থ ছিল তার সৃষ্টির বুকে মনুষ্য জাতির আবাদ করা (যদিও সৃষ্টিকর্তা চাইলে অন্য যেকোনো ভাবেই তা করতে পারতেন)। সম্পর্ক ও স্বার্থ ছাড়া যেমন সম্পর্ক হয় না তেমনি সম্পর্ক না থাকলে স্বার্থও আসে না। যেকোনো নতুন সম্পর্ক কিছু স্বার্থ কেন্দ্রিক।
সৃষ্টিকর্তা এই বিশ্বলোক সৃষ্টি করেছেন তার আপন উদ্দেশ্য সামনে রেখে। সৃষ্টিকর্তার পৃথিবী সৃষ্টির উদ্দেশ্য করেছেন সঠিক নিয়মে ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য। আবার মনুষ্যবাসির ইবাদত-বন্দেগী নিঃস্বার্থ নয়। আল্লাহ্র ইবাদত-বন্দেগী মধ্যমে চির সুখময় স্থান (বেহেশ্ত) মনুষ্যবাসির স্বার্থ।
সুতরাং সৃষ্টিকর্তার সাথেই যেখানে আমাদের সম্পর্ক স্বার্থের ডোরেরে বাধা তবে মনুষ্যবাসির কি করে পারস্পরিক স্বার্থ মুক্ত থাকবে। তাই মানুষের চরিত্রে স্বার্থপরতা খারাপ কিছু নয়। একজন মানুষ সবকিছুর আগে তার নিজের কথা ভাবাটাই স্বাভাবিক।
পৃথিবীটা অনেক স্বার্থপর। পৃথিবীর এই স্বার্থপরতায় কষ্ট পায় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া শুধু কঠিন না অনেকটা অসম্ভব। স্বার্থের মুড়কে আবৃত পৃথিবীর প্রতিটি কর্মের পিছনে যেমন একটা না একটা উদ্দেশ্য থাকে তেমনি প্রতিটি সম্পর্কের মাঝেও কিছু স্বার্থ থাকে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করার কোন পথ নেই।
প্রায় প্রতিটি সম্পর্ক এইরকম কিছু স্বার্থ দ্বারা আবর্তিত। এমনকি বাবার সাথেও প্রতিটি সন্তানের সম্পর্ক স্বার্থ কেন্দ্রিক। বাবা সন্তানকে মানুষ করেন বড় হয়ে সন্তান তার মুখ উজ্জ্বল করবে, বার্ধক্যে তার দেখা শুনা করবে, কিংবা ভবিষ্যত বংশধর রক্ষার স্বার্থকে সামনে রেখে।
এই স্বার্থগুলোই বাবা এবং সন্তানের সম্পর্কের জন্ম দিয়েছিল কিংবা এই সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি করেছিল। স্বার্থের উপস্থিতির কাছে সম্পর্ককে ছোট করে দেখার কোন যৌক্তিকতা ততক্ষণ নেই যতক্ষণ না স্বার্থের কাছে সম্পর্কের মর্যাদা কমে না যায়। স্বার্থ সম্পর্কে থাকবেই কিন্তু স্বার্থকে যখন সম্পর্কের চেয়ে বড় করে দেখা হয় তখন সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা-বোধ কমে। আর শ্রদ্ধা বোধ ছাড়া কখনও সম্পর্ক টিকে না।

No comments