Header Ads

বিদেশে দেশী স্টাইলে রাজনীতি

ভিন দেশীরা তাই কয়
যেথায় তিনটা বাঙ্গালী একত্রিত হয়
সেথায় চারটা দলের জন্ম লয়।

বাংলাদেশের আনুমানিক এক কোটি মানুষ বসবাস করেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে৷ অনেক সময় তারা দেশের দলীয় রাজনীতির ধারা বজায় রেখে আলোচিত হয়েছেন বিদেশের মাটিতেও।

রাজনীতি যদিওবা একসময় শান্তিময় ছিল কিন্তু এখন অশান্তির খোরাক বলা যায়। বাংলাদেশের রাজনীতি কি অবস্থায় আছে সেটা বলে বুঝাতে হয়না সবাই জানেন। প্রতিহিংসা আর ক্ষমতার অপব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ দেশের রাজনীতি। কল্যাণের জন্য রাজনীতি হলেও আজ অকল্যাণই বেশি হচ্ছে। বাঙ্গালী বীরের জাতি, সে বিরত্ব আমরা মঞ্ছে উঠে নেতা সেজে দেখাতেই ভাল বাসী৷ আর নেতা হবার অদম্য প্রবনতাই আমাদের প্রবাসে দেশী ঘৃণ্য রাজনীতিতে টেনে আনে।

দেশি রাজনীতি বিদেশে  কেন ?
বিদেশে দেশী রাজনীতি চালু থাকলে তার ‘ডিরেক্ট বেনিফিট’ বাংলাদেশের বিশেষ এক শ্রেনীর এমপি-মন্ত্রী বাহাদুর ও রাজনীতিবিদদের। ভিনদেশের বিমানবন্দরে ফুলের মালা, বিলাসবহুল হোটেলে তোষামোদি ও চাটুকারিতা উপভোগ, রকমারী ফ্রি শপিং, বৈচিত্রে ভরপুর সব উপহার, কারো কারো ক্ষেত্রে মধ্যরাতের লাল-নীল সর্বোচ্চ বিনোদন, দিনের আলোতে সস্তা গণসংবর্ধনা সহ আরো কত কি?

দেশ থেকে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যারা বিদেশে সরকারী সফরে বা বেড়াতে আসেন। তারাও কিন্তু প্রবাসী রাজনীতিবিদদের সুপরামর্শ দেন না । তারা দামী উপঢৌকন , নগদ অর্থ ও জিন্দাবাদ ধ্বনী শোনার জন্য এদের কে ব্যবহার করেন। বাংলাদেশের মতো প্রবাসেও রাজনৈতিক দলগত বা জোটগত বিভাজন তো আছেই । আবার একই রাজনৈতিক দলের মধ্যেও ক্ষমতার লড়াই নিয়ে কোন্দল আছে। কিন্তু এসব নিয়েও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নিতে দেশ থেকে আসা রাজনৈতিক নেতাদেরকে দেখা যায় না।

বহির্বিশ্বে অথবা উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রের কোন রাষ্ট্র নায়ক যদি কোথাও রাষ্ট্রীয় সফরে যান সেখানে সে দেশের নাগরিক কর্তৃক কোন মিছিল মিটিং অথবা পিকেটিং হয়না, কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক অথবা মন্ত্রী যখন রাষ্ট্রীয় সফরে কোথাও যান সেখানে মিছিল মিটিং পিকেটিং করে একদল আরেক দল তোষামোদ করে আর চাটুকারের ভ‚মিকায় সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে নিজের অবস্থান মজবুত করতে ব্যস্ত। আবার আরেক দল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্রনায়ক এর সামনে চেয়ার ভাঙ্গেন , হাতাহাতি হয় আবার সে ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করেন। এটা কেমন দেশাত্ববোধ? কেমন মাতৃত্বের টান? কেমন সভ্যতা? কেমন রাজনীতি আর কেমনই বা দেশ সেবা?

আজ আমরা যারা প্রবাসের মাটিতে জীবন যুদ্ধে প্রতি মুহুর্তে লড়াই করছি নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সেখানে রাজনীতির নামে প্রহসন না করে মানবতার নীতিতে কাজ করাই হোক প্রবাস জীবনের আসল রাজনীতি, মূল আদর্শ। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা, আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জিবিত করা, মাতৃভাষার সঠিক চর্চা, দেশের স্বার্থে আমাদের মেধার সঠিক প্রয়োগ করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করাই হোক আমাদের প্রবাসে সত্যিকার রাজনীতি।

তাই আর যাই হোক, স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসবাসরত প্রবাসীদের রাজনৈতিক ভাবনা যেন সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির আবদ্ধতায় দেশের মর্যাদার হানি না ঘটায় এটাই হোক নতুন বছরের প্রত্যাশা। সবাই কে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’।
No photo description available.

No comments

Powered by Blogger.