পুলিশ ভেরিফিকেশন: দুর্নীতি আর হয়রানির আরেক নাম..
পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশনে কি কি যাচাই করা হয়?
ব্যক্তির ঠিকানা: আবেদনে উল্লেখিত স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানা যাচাই করা হয়। পুলিশ সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে নিশ্চিত হয় যে আবেদনকারী সেখানে বসবাস করেন কিনা।
পরিচয়পত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্ম সনদ, অথবা অন্যান্য প্রমাণপত্র যাচাই করা হয়।
আবেদনকারীর পেশা: পেশা এবং কর্মস্থলের তথ্য যাচাই করা, বিশেষ করে যদি পেশাজীবী হন।
পুলিশ রেকর্ড: আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা পূর্বে অপরাধমূলক কার্যকলাপের রেকর্ড আছে কিনা তা যাচাই করা হয়।
পারিবারিক তথ্য: আবেদনকারীর পরিবারের তথ্য, যেমন পিতামাতা বা অভিভাবকের নাম, বৈবাহিক অবস্থা যাচাই।
পাসপোর্টের পূর্ব ইতিহাস: যদি আবেদনকারীর আগে কোনো পাসপোর্ট থাকে, তবে সেটির ইতিহাস যাচাই করা হয়।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে আবেদনকারী পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য যোগ্য এবং তাদের তথ্য সঠিক।
কেন পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়?
পরিচয় নিশ্চিত করা: আবেদনকারীর পরিচয় এবং তাদের প্রদানকৃত তথ্য যেমন নাম, ঠিকানা, এবং ব্যক্তিগত তথ্য সঠিক এবং প্রামাণিক কিনা তা নিশ্চিত করা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: আবেদনকারী কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত কিনা বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কিনা তা যাচাই করা। এটি নিশ্চিত করে যে পাসপোর্ট এমন কারো হাতে
ঠিকানা যাচাই: আবেদনকারী যে ঠিকানা প্রদান করেছেন, তা সত্য কিনা এবং তিনি সেখানে বসবাস করেন কিনা তা নিশ্চিত করা হয়। এটি প্রয়োজনীয় যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আবেদনকারীর সাথে যোগাযোগ করা যায়।
ভুল বা জাল তথ্য প্রতিরোধ: পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ভুয়া পরিচয় বা জাল তথ্য প্রদানকারীকে শনাক্ত করা হয়, যা পাসপোর্ট জালিয়াতি বা প্রতারণা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ: আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট ইস্যু করার আগে আবেদনকারীর অতীত ও পরিচয় যাচাই করা একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া, যা দেশের সীমানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় দ্রুতগতি আনার জন্য একটি নতুন অনলাইন সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে করে, শিগগিরই পুলিশ ভেরিফিকেশন অনলাইনে সম্পন্ন করে সাত দিনের মধ্যে পাসপোর্ট সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। বর্তমান পদ্ধতিতে সরাসরি পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে বেশি সময় লাগার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা সমস্যার সম্মুখীন হন। তাই, নতুন অনলাইন পদ্ধতি চালু হলে সময় ও খরচ কমে আসবে এবং আবেদনকারীদের হয়রানি হ্রাস পাবে।
এর আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (CMP) এসএমএস-ভিত্তিক ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালু করেছে, যাতে আবেদনকারীরা তাদের ভেরিফিকেশন স্ট্যাটাস সম্পর্কে অবহিত থাকতে পারেন এবং এর অগ্রগতি দ্রুত জানতে পারেন। এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে এবং পাসপোর্ট প্রাপ্তি সহজ করবে।
এখনো এই নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, তবে শিগগিরই বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিসের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। তাই আগ্রহী আবেদনকারীদের অফিসিয়াল আপডেটের জন্য নিয়মিত নজর রাখতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে অনলাইন পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থার পরিকল্পনার বিষয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে:
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে শুরু হওয়া এসএমএস-ভিত্তিক পুলিশ ভেরিফিকেশন সিস্টেম এবং অন্যান্য অনলাইনভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে The Business Standard ও Dhaka Tribune এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বিশেষ করে চট্টগ্রাম এলাকায় দ্রুত পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে অনলাইন সিস্টেমের বিভিন্ন সুবিধা এবং পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কথা বলা হয় ।
এছাড়া, বর্তমান সময়ে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া কীভাবে উন্নত হচ্ছে এবং কীভাবে অনলাইন সিস্টেম দ্রুত সেবা প্রদানে ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে আরও তথ্য পাওয়া যায় বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডন এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ।
পাসপোর্টে এখনই বাতিল হচ্ছে না পুলিশ ভেরিফিকেশন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট নেওয়া রোধে পুলিশ ভেরিফিকেশন পদ্ধতি এখনই তুলে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
গত সোমবার (০৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অধিদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়ার একটি চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দিলে অনেকেই ভুয়া নাম ঠিকানায় পাসপোর্ট করার সুযোগ পাবে। এ কারণেই পুলিশ ভেরিফিকেশনটা তুলে দেওয়া হচ্ছে না।



No comments