কক্সবাজার ভ্রমন পর্ব-২
সুইমিং পুলে গোসল শেষে আমরা রুমে ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। বিকেল হতে না হতেই পরিকল্পনা করলাম স্থানীয় কিছু সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নিতে। সবাই মিলে গেলাম জাহাঙ্গীর মেছ, যেখানে আমাদের বিশেষভাবে আপ্যায়ন করা হলো। রেস্টুরেন্টের মালিক, যিনি আমাদের ভাবীর (সুজন ভাবীর) আত্মীয়, তাই উনার আন্তরিকতায় আমাদের জন্য টেবিল সাজিয়ে দেওয়া হলো নানান সুস্বাদু পদে।
টেবিল ভরে গিয়েছিল নানা ধরনের ভর্তায়, প্রতিটি পদেই যেন স্থানীয় স্বাদের এক ভিন্নমাত্রা দিয়েছে, সামুদ্রিক মাছের বিশেষ রান্না ছিল এক কথায় অনন্য। রেস্টুরেন্টের মালিক আমাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিতে রাজি হননি, বরং উনার আন্তরিকতায় আমরা খুব আরাম করে ভোজন উপভোগ করলাম। এমন আপ্যায়ন আমাদের মন ভরিয়ে দিল।
রেস্টুরেন্ট থেকে ফিরে আবার রুমে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। সন্ধ্যার দিকে আমরা সবাই মিলে বের হলাম সমুদ্রের কাছাকাছি সময় কাটানোর জন্য। সৈকতে পৌঁছে নরম বালুর ওপর হাঁটতে হাঁটতে সাগরের গর্জন আর ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করছিলাম।
সৈকতের কাছে বসে সবাই মিলে আনারকলি ফল খাওয়ার অভিজ্ঞতাটাও ছিল দারুণ। ছোট ছোট আনারকলি, প্রতিটাই টাটকা আর রসালো। আমরা একেকটা আনারকলি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কিনলাম। প্রথমে মনে হচ্ছিল একটু বেশি দাম, কিন্তু ফলের টাটকা স্বাদ আর সমুদ্রের হাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে সেই দামটাও তখন তুচ্ছ মনে হলো।
আমরা সবাই মিলে আনারকলি খেতে খেতে গল্প করছিলাম। ঢেউয়ের শব্দ আর সমুদ্রের স্নিগ্ধ পরিবেশ আমাদের পুরো মুহূর্তটাকে যেন আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। এমন সাধারণ একটা ফল খাওয়ার আনন্দ, প্রকৃতির মাঝে বসে এমন একটা বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠল, যা সহজে ভুলবার নয়।
সন্ধ্যার পরে সমুদ্রের পরিবেশ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠেছিল। সূর্য ডুবে যাওয়ার পর সাগরের পানি একটু একটু করে সরে গিয়ে দূরে চলে যাচ্ছিল। সৈকতের বালু তখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছিল, আর সেই মুহূর্তে আমরা ঠিক করলাম আরও দূরে গিয়ে সাগরের পানিতে ভেজা যাবে।
সামুদ্রিক হাওয়ার মাঝখানে হাঁটতে হাঁটতে আমরা অনেকটা দূর পর্যন্ত এগিয়ে গেলাম। সেখানে গিয়ে পায়ের নিচে নরম বালু আর ঠাণ্ডা পানির স্পর্শ সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি দিল। ঢেউগুলো তখন আরও শান্ত, আর আকাশে নরম আলো ফেলে ছিল রাতের চাঁদ।
আমরা সবাই মিলে পানিতে পা ভিজিয়ে দারুণ সময় কাটালাম। কেউ পানিতে দাঁড়িয়ে, কেউ হালকা দৌড়ে আনন্দ করছিল। এর মধ্যেই শুরু হলো ছবি তোলার মজা। ঢেউয়ের পাশে দাঁড়িয়ে, পানির ওপর আলতো ভিজে থাকা বালির মধ্যে নানা ভঙ্গিতে ছবি তুললাম। সাগরের গর্জন আর হাওয়ার মধ্যে হাসি-ঠাট্টা, খুনসুটি আর মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরায় বন্দি করে রাখার চেষ্টা চলতে থাকল।
সমুদ্রের সাথে কাটানো এই সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা একদম আলাদা ছিল। এই সন্ধ্যার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উপভোগ্য। দিন শেষে মনে হলো, কক্সবাজার শুধু দেখার জায়গা নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়া আর ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে কাটানো সময়ের এক অসাধারণ স্মৃতিসৌধ।


No comments