Header Ads

MRP এবং e-Passport পার্থক্য

 

MRP (Machine Readable Passport) এবং e-Passport (Electronic Passport) এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পার্থক্য রয়েছে। নিচে এই দুটি পাসপোর্টের মূল পার্থক্য তুলে ধরা হলো:


এম আর পি পাসপোর্ট কি?

মেশিন রিডেবল এম আর পি (MRP) পাসপোর্ট সাধারণ ভাবে পুরানো জাতীয় পরিচয় পত্রের সাথে তুলনা করতে পারেন। আগে যেই ধরণের জাতীয় পরিচয় দেওয়ার হতো, তাতে শুধুমাত্র নিজের নাম, মাতা-পিতার নাম, জন্ম তারিখ, এক আঙ্গুলের ছাপ বা সাক্ষর ও ঠিকানা ইত্যাদি উল্লেখ থাকতো।

কিন্তু জাতীয় পরিচয় পত্রের স্মার্টকার্ড গুলোতে কার্ডধারীর প্রায় সমস্ত তথ্য চিপের ডেটাবেজে উল্লেখ থাকে। যেমন- কার্ডধারীর রঙিন ছবি, দুই হাতের দশ আঙ্গুলের ছাপ ও দু’চোখের আইরিশ উক্ত কার্ড চিপের ডেটাবেজ সংরক্ষিত থাকে। এম আর পি পাসপোর্ট ও ই পাসপোর্টের পার্থক্য এখানেই।

ই পাসপোর্ট কি?

E-passport কে ডিজিটাল পাসপোর্ট বা ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট বলা হয়। অর্থাৎ, পাসপোর্টের আধুনিক ভার্সনকে ই-পাসপোর্ট নামে ডাকা হয়। বাংলাদেশে পাসপোর্টের এই আধুনিক ভার্সনটি ২০২০ সালে চালু হয়।সাধারণ ভাবে এম আর পি (MRP) পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট এর মধ্যে তেমন কোনো ভিন্নতা নেই। তবে ই-পাসপোর্টে প্রযুক্তিগত কিছু ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।

১. তথ্য ধারণের পদ্ধতি:

MRP এবং e-Passport পার্থক্য

  • MRP (Machine Readable Passport):

এটি একটি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট যার তথ্য পাসপোর্টের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রিন্ট করা থাকে। নিচের অংশে একটি মেশিন রিডেবল জোন (MRZ) থাকে, যেখানে পাসপোর্ট ধারকের তথ্য কোড করা থাকে।

  • e-Passport (Electronic Passport):

এতে একটি ইলেকট্রনিক চিপ সংযুক্ত থাকে, যেখানে পাসপোর্টধারীর বায়োমেট্রিক তথ্য (যেমন: ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের মণির স্ক্যান) এবং ব্যক্তিগত তথ্য ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষিত থাকে।

২. নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

  • MRP:

এটি মেশিন দ্বারা পড়া যায়, তবে এতে চিপ বা উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। জালিয়াতি করার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

  • e-Passport:

এতে উচ্চ মানের নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। চিপের মাধ্যমে পাসপোর্টের তথ্য ভেরিফাই করা যায়, যা জালিয়াতি অনেক কঠিন করে তোলে।

৩. বায়োমেট্রিক তথ্য:

  • MRP:

এতে কোনো বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না।

  • e-Passport:

এতে পাসপোর্টধারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের মণি (আইরিশ স্ক্যান), এবং ছবি ইলেকট্রনিক চিপে সংরক্ষিত থাকে।

৪. আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা:

  • MRP:

এটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, তবে e-Passport এর তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ।

  • e-Passport:

এটি আন্তর্জাতিকভাবে আরও আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য পাসপোর্ট। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং সহজ হয়।

৫. ব্যবহার ও সুবিধা:

  • MRP:

মেশিন রিডেবল হলেও, এটি ম্যানুয়াল চেকিংয়ের প্রয়োজন পড়তে পারে।

  • e-Passport:

ইলেকট্রনিক চেকপয়েন্টে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হয়।

সংক্ষেপে:

e-Passport হলো MRP এর উন্নত সংস্করণ। এটি নিরাপত্তা ও তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আরও উন্নত এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। বাংলাদেশে বর্তমানে MRP এর পাশাপাশি e-Passport ইস্যু করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সম্পূর্ণভাবে e-Passport এ রূপান্তরিত হবে।

MRP এবং e-Passport পার্থক্য
হোসাইন ইকবাল

মাদ্রিদ, স্পেন।


No comments

Powered by Blogger.