আপনি ও ঘুরে আসুন জেনে নিন টুকিটাকি
কক্সবাজার ভ্রমন-১
আমি আর Sheikh Sujon ভাইর দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল কক্সবাজার যাওয়ার। কতবার যে প্ল্যান করেছি, কিন্তু নানা কারণে হয়ে ওঠেনি। ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, আর প্রবাস জীবনের নিত্যদিনের রুটিনের মধ্যে থেকেও আমাদের ইচ্ছে ছিল কক্সবাজারে যাওয়ার সব মিলিয়ে স্বপ্নটা শুধু প্ল্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার সেই স্বপ্নপূরণের যাত্রায় যোগ দিলেন
Mamun Mostakim মামা, মামী, এবং তাদের ছেলে-মেয়ে (আরাফ আর মুনতাহা)। বিশেষ ব্যাপার হলো, মামা আগে থেকেই কক্সবাজারে বেশ কয়েকবার গিয়েছেন, তাই উনার অভিজ্ঞতা আর পরিচিতি আমাদের যাত্রাটাকে আরও সহজ এবং উপভোগ্য করে তুলেছিল। বিমান টিকিট বুক করা থেকে শুরু করে সায়মন রিসোর্টে থাকার ব্যবস্থা সব মামা করেছেন। যাত্রা শুরুর পর থেকেই মনে হচ্ছিল, এতদিনের অজুহাত আর দেরি সত্ত্বেও এই ভ্রমণটুকুই যেন সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।
ঢাকা শহরের ব্যস্ততা আর জ্যাম পেছনে ফেলে ভোরবেলা হাজির হলাম বিমানবন্দরে। ইন্টারন্যাশনাল, ডমেস্টিক ফ্লাইটে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বেশ সমৃদ্ধ। তবে কক্সবাজারে ডমেস্টিক ফ্লাইটের এই যাত্রা ভিন্ন এক প্রশান্তি দিয়েছে । আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের তুলনায় ছোট এই ভ্রমণে তেমন আনুষ্ঠানিকতার ঝামেলা নেই, বরং রয়েছে হালকা ও আরামদায়ক এক অভিজ্ঞতা।
মাত্র ১ ঘন্টা ৫ মিনিটের এই উড়ান শুরু হতেই যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেলো। আকাশের নীল বিশালতা আর নিচে সবুজ প্রকৃতির মোহনীয় দৃশ্য মন জুড়িয়ে দিয়েছে।
বিমানের জানালা দিয়ে সমুদ্রের আভাস দেখা শুরু হয় যখন, তখন মনে হয় স্বপ্নের কোনো জগতে পা দিতে চলেছি। প্লেন কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামতেই হালকা গরম বাতাস আর সাগরের ঘ্রাণ, ছোট এবং সুশৃঙ্খল এই বিমানবন্দরটি এমনই যে, এক মুহূর্তেই আপনাকে সমুদ্রের কাছাকাছি নিয়ে যায়।
কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামার পরপরই সায়মন বিচ রিসোর্টের নিজস্ব গাড়ি আমাদের স্বাগত জানায়। বিমানবন্দরের ছোট্ট, সাজানো-গোছানো পরিবেশের বাইরে এসে এই প্রফেশনাল সার্ভিস পাওয়া প্রশান্তিদায়ক। গাড়িটি ছিল আরামদায়ক এবং পরিষ্কার, যা যাত্রাকে আরও মনোরম করে তোলে। গাড়ির জানালা দিয়ে দেখতে পাচ্ছিলাম কক্সবাজার শহরের সৌন্দর্য রাস্তায় মানুষের ব্যস্ততা, ছোট ছোট দোকান, আর দূরে সমুদ্রের আভাস।
মাত্র ২০-২৫ মিনিটের মধ্যেই গাড়ি আমাদের হোটেলে পৌঁছে দিল। সায়মন রিসোর্টের প্রবেশপথে নেমে হোটেলের আভিজাত্য দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছানো পর্যন্ত এই যাত্রা এতটাই আরামদায়ক ছিল যে, মনে হচ্ছিল একদম ঠিক জায়গায় এসে পৌঁছেছি।
দুপুর ১২টার দিকে আমরা সায়মন বিচ রিসোর্টের রুমে পৌঁছাই। রুমটি ছিল আধুনিক সাজসজ্জায় ভরা। সমুদ্রের দিকে মুখ করা বারান্দা থেকে ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতেই রুমে ঢুকে পড়ি। ফ্লাইট আর ভ্রমণের পর একটু বিশ্রাম খুব প্রয়োজন ছিল। আরামদায়ক বিছানায় হালকা ঘুম আর রেস্টের পর যেন নতুন করে সতেজ হয়ে উঠলাম।
বিকেলের দিকে সুইমিং পুলের দিকে রওনা দিলাম। সায়মনের সুইমিং পুল এক কথায় দারুণ! আর দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য এই মুহূর্তগুলো সত্যিই বিশেষ। পুল থেকে উপরে তাকালে দেখা যাচ্ছিল নীল আকাশ, আর দূরে সমুদ্রের ঢেউয়ের মৃদু আওয়াজ যেন পুরো অভিজ্ঞতাকে অন্য এক মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছিল।
মামা সঙ্গে থাকায় আমাদের ভ্রমণকে শুধু আরামদায়ক করেনি, বরং পুরো অভিজ্ঞতাটাই আরও রঙিন আর সুন্দর করে তুলেছে। মামার অভিজ্ঞতা আর আন্তরিকতায় যেন আমাদের প্রথম কক্সবাজার যাত্রা নিখুঁত হয়ে উঠল।
চলবে________


No comments