Header Ads

স্পেন টু আমেরিকা ১ম পর্ব

প্রবাস কথা এক্সপ্রেস,,,
স্পেন টু আমেরিকা,,,,,
--------------------------------------
--------------------------------------
-----------------------------ফখরুদ্দীন রাজি
একটি সাহসী উদ্যোগ, উদ্যমী নেতৃত্ব, আর টার্গেটের প্রতি অবিচল আস্হা, পৌঁছে দিতে পারে আপনাকে সফলতার দোরগোড়ে। "প্রবাসকথা" তেমনি একটি উদ্যোগের নাম।
আমি প্রবাসকথায় সংযুক্ত হই বন্ধুবর এস,পি মাসুদের প্রণোদনায়। একটি গোছালো ছিমছাম অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে মাদ্রিদে যাত্রা শুরু, অতপর,,,,রেলগাড়ি ঝমাঝম,,,,।
কলম চালনার হবি অনেক আগ থেকেই, কিন্তু প্রবাসী হওয়ার পর অনেকের মতোই আমিও মনোযোগী কামলায় পরিনত হওয়ার কসরত করেছি, প্রবাস কথার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার পর পুনরায় কলমের সাথে সখ্যতার সেতুবন্ধন তৈরী হয়েছে। এবিচারে প্রবাসকথা এতটুকু ধন্যবাদ পেতেই পারে। কাজের চাপে মাঝে মাঝে অনিয়মিত হয়েছি/হই কিন্তু মন পড়ে থাকে এ প্রাঙ্গনে।প্রবাস কথায় মাঝে ভাঙ্গন, মনোমালিন্য, তীর্যক মন্তব্য সব মিলিয়ে ভালো লাগা মন্দলাগার নিমিত্তে টক ঝাল মিষ্টি প্রবাসকথার রসাস্বাদন করতে পেরেছি। আমার বিবেচনায় প্রবাস কথাই সঠিক ছিল এবং এখন পর্যন্ত এটাই আমার প্রিয় অঙ্গন।
প্রবাসকথায় নতুন মাত্রা সংযোজন করে "লাইভ সম্প্রচার"। আমার যতদূর মনে পড়ে মাদ্রিদ থেকেই সর্বপ্রথম আমি ও বন্ধুবর এস, পি মাসুদ - নাহিদ আনোয়ারুলের ক্যামেরায় লাইভে আসি,,অতঃপর লাইভের ধারাবাহিকতা শুরু।
স্পেনের বার্সেলোনায় প্রবাস কথার গেট টুগেদার পারিবারিক মেলবন্ধনে নতুন যোগসুত্র তৈরী করে। শুরু হয় খন্ড খন্ড গেট টুগেদার আর "আমি প্রবাস কথার মেম্বার" এই পরিচয়ে পারষ্পরিক পরিচয় ও সম্পর্ক স্হাপন। আমি আশাবাদী এই চেতনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অচিরেই বিশ্বব্যপী ওয়েবসাইট ভিত্তিক একটি শক্তিশালী সামাজিক সংগঠনে রুপান্তরিত হবে আমাদের এই প্রবাসকথা।
এবার আসি অপরিচিতজনকে আপন করে নেয়ার মানসিকতার কথা। কিছুদিন আগে বার্সেলোনায় পদার্পন করেছিলাম লন্ডন ভিত্তিক পরিচালিত একটি এনজিওর হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে যোগদানের উদ্দেশ্যে।পৌছারপর দেখলাম হাতে পাক্কা চার ঘন্টা সময় আছে, ভাবলাম সময়টাকে কাজে লাগাই, প্রবাস কথার মিষ্টিমুখ প্রিয় তাহমিনা আপাকে দেখে আসি, যেই ভাবা সেই কাজ, কিন্তু বিধিবাম ফোন নাম্বার নেই, তাতে কি,,ফোন দিলাম,, চির সবুজ,, ইমরানভাইকে, আমি বার্সেলোনায় শুনেই রেই রেই করে উঠলেন! সত্যি আমি মোহিত হয়েছি তাঁর সেদিনের উছ্বাসে, তিনি নাম্বার না দিয়ে এখলাস ভাইকে ফোন লাগালেন, বেচারা এখলাস ভাই ছুটিতেই ছিলেন, বাজার করতে বের হয়েছিলেন, আমার আগমনী বার্তা পেয়ে আমাকে ফোন দিলেন, হ্যালো রাজি ভাই, কোথায় আছেন? হ্যাঁ, আপনি এভাবে এভাবে ওখানে চলে আসেন, আমি রিসিভ করছি আপনাকে। সুবোধ বালকের মতো তাঁর দেয়া ঠিকানায় হাজির হয়ে যাই আমি, সহাস্য বদনে, উম্মুক্ত বাহু বাড়িয়ে সহস্রাব্দের শ্রেষ্ঠ আলিঙ্গনে আপন করে নিলেন আমাকে। অতঃপর তাঁর বাসায়, করিৎকর্মা ভাবী ইতোমধ্যে তাঁর সমস্ত আয়োজন সাজিয়ে নিয়ে আসলেন, তার মানে বাসায় আগেই সিগন্যাল পৌঁছে গিয়েছিল।
ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া পর্বের পর আমার ডেস্টিনেশনের উদ্দেশ্যে রেডী হলাম। ইত্যবসরে এখলাস ভাইর দুই সন্তান ও আমাকে তাদের আপনজনের তালিকাভুক্ত করেনিল, একটু খুনসুঁটি একটু সখ্যতা সবমিলিয়ে মিশুক বাচ্চা তারা। আমার সঙ্গী হলেন এখলাস ভাই, ছাড়বেননা আমাকে, আমার সাথে পুরো চারঘন্টার প্রথমসেশন লেকচার পর্বে তিনি ঠাঁয় বসে ছিলেন। অতঃপর ভাবী সাহেবার উপর্যুপরি ফোন, তাহমিনা আপার অভিমানী ফোন, প্রবাসকথার আরেক সদস্য মিরন নাজমুল ভাইর অনুরোধী ফোন, মিরন নাজমুল ভাই ও আরো কতিপয় প্রবাসকথার সদস্য শুভানুধ্যায়ীর সাথে আমার প্রোগ্রামে যাওয়ার আগে এক সংক্ষিপ্ত চা চক্রে শরীক হয়েছিলাম, সে কারনে আমি তাঁর অনুরোধকে উপেক্ষা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাঁর আবেগ ভেজা কন্ঠ আমাকে না বলার সাহস জোগাতে দেয়নি। দু-জন মিলে মিরন নাজমুলের বাসায় হরেক আইটেম দিয়ে গলা পর্যন্ত খেলাম। অবাক হয়েছি যখন জেনেছি হরেক রকম এই আইটেমগুলো মিরন ভাই নিজে হাতে তৈরী করেছেন। কি আন্তরিকতা! কি হৃদ্যতা! মিরন ভাইর বাচ্চা আমার গলা ধরে ঝুল খাচ্ছিল, নিজের খেলনাগুলো দেখাচ্ছিল কিযে ভালো লাগছিল তখন, তা কলম কাগজে বোঝানো সম্ভব নয়।
রাত প্রায় বারোটা অপেক্ষা করতে করতে এখলাস ভাবী ক্লান্ত, এখলাস ভাই সাহস পাচ্ছিলেননা ভাবীকে এ কথা বলতে, আমরা অন্যত্র মজা মেরে খাচ্ছি। আমি সাহস দিলাম নো চিন্তা আপনার বাসায় গিয়ে আবার খবো, প্রাণ খুলে হাসলেন তিনি, একজন মানুষ কতটুকু উদার ও আত্মত্যাগী হলে একজন অপরিচিত বন্ধুর জন্য এত সময় ব্যয় করতে পারেন আমি তা জানিনা। ইতোমধ্যে আগামীকাল সময় নিয়ে তাহমিনা আপার বাসায় যাচ্ছি বলে তাহমিনা আপাকে নিবৃত্ত করা হলো।
****(চলবে)****

No comments

Powered by Blogger.