Header Ads

স্পেন টু আমেরিকা তৃতীয় পর্ব

প্রবাস কথা এক্সপ্রেস,,,((তৃতীয় পর্ব))
স্পেন  টু আমেরিকা,,,,,
--------------------------------------
--------------------------------------
             ---------------ফখরুদ্দীন রাজি,

আমি যখন এ লিখাটি লিখছি তখন ধারাবর্ণনার শুরুতেই তাহমিনা আক্তার নাহার আপার বাসায় আসার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করেছিলাম, আর তাঁর ঠিকানা খুঁজতে গিয়েই আরো আরো দহলিজে আতিথেয়তা গ্রহন করার সৌভাগ্য মন্ডিত হয়েছিলাম। অবশেষে আমি এলাম, এখানে এলাম, তাহমিনা আপার বাসায় এলাম। তাঁর প্রতি আমার বিশেষ দূর্বলতার কথা আমি অকপটেই স্বীকার করছি, শুধু আমি কেন আমার এই সিরিজটি যাঁরা পড়ছেন  তাঁদের অনেককেই আমি তাহমিনা আপার বাসায় ঘটিত ঘটনাবলীর বর্ণনাশোনার অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান দেখেছি, এতে করে তাহমিনা আপার জনপ্রিয়তাই শুধু নয় ,  একজন আপাদমস্তক সহজসরল ভালোমানুষের কদর ও গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু হতে পারে এটা তারও একটি উৎকৃষ্ট উদাহরন বৈকি।

              তাহমিনা আপা, একজন সাদামনের সহজ সরল নিরেট বাঙালী নারীর প্রতিভু, একজন বড়বোন, একজন বান্ধবী, একজন কবি, একজন শব্দ শিল্পী, একজন বিনামুল্যের উপদেষ্টা, একজন রাঁধুনী, একজন গায়িকা, একজন প্রকৃতিপ্রেমী,একজন মাতা, একজন সেবিকা, একজন আদর্শ স্ত্রী, সর্বোপরি তাহমিনা আপা একজন দেবীতুল্য "নারী"। আমাদের আগমন প্রতীক্ষায় ক্লান্ত শ্রান্ত তাহমিনা আপা তাঁর নিজবাড়ীতেই পায়চারি করছিলেন, কখনো বা গেটে গেট থেকে গেট সংলগ্ন রাস্তায়, আবার রান্না ঘরে, অবশেষে আমরা যখন তাঁর দরজায় হাজির হই, খুশির ঝিলিক তাঁর মুখাবয়বকে উজ্বল করে তুলছিল, বারবার এতোদেরীর কারন জানতে চাইছিলেন, যে মানুষটির সাথে জীবনে কোনদিন দেখা নেই সাক্ষাৎনেই সে মানুষটিই গোপনে আত্মার আত্মীয় হয়ে গেলো প্রবাসকথার কল্যানে। জয়তু প্রবাস কথা। প্রবাসকথার সৃষ্টি না হলে এমন ভালো মানুষগুলোর সাহচর্যে আসার সুযোগ ছিল ধারনার ও বাইরে। আমাদের খাওয়াবেন বলে সেই  দুপুর থেকে ডাইনিং টেবিল পাহারা দেওয়া তাহমিনা আপা ব্যস্ত হয়ে গেলেন খাবার পুনরায় গরম করতে। সাথে তাঁরই উত্তম কপি তাঁর বড় মেয়ে। তাহমিনা আপার দুইমেয়ে, ছোট মেয়েও সেদিন বাসায় ছিল কিন্তু বোধ করি কিছুটা লাজুক প্রকৃতির বলেই আমাদের কাছে ঘেঁষেনি।অবশ্য একবার এসে কার্টেসী মেন্টেইন করে গিয়েছে। আপার বড় মেয়ে আপার মতোই সহজ সরল, মায়ের সেক্রটারীর দায়িত্বটা সে সুচারু রুপেই সম্পাদন করে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একবার রান্নাঘরে একবার ডাইনিং টেবিলে আপার ব্যস্ততা ছিল উপভোগ করার মতো, এখলাসভাই স্বভাব সুলভভাবেই প্রানখোলা হাসিতে মাতিয়ে রাখছিলেন পরিবেশ, আর আপার সাথে তাঁর হৃদ্যতা কতখানি তাও আঁচ করতে পেরেছি সেইদিন, আমার সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে চেপা শুটকীর বর্ণনার প্রেক্ষিতে কমেন্টসে তিনি তাঁর খুশির কথা উল্লেখ করলেও সেদিন এখলাসভাইকে এসব আনার জন্য শাসন করতে কসুর করেননি। ভাই আর বোনের সম্পর্কতো এমনই হওয়ার কথা,,,। তাহমিনা আপার হাজবেন্ডকে আমি সেদিন দেখিনি, কেননা তিনি অসুস্হ ও ঘুমুচ্ছিলেন। আমরাও আর বিরক্ত করার সাহস করিনি। আমাকে দেখার পর তাহমিনা আপা কিছুটা বিব্রত বোধ করছিলেন, কেননা তিনি ভেবেছিলেন আমি হয়তো আরো বয়স্ক ধরনের কেউ হবো। তাই তিনি একবার আমাকে আপনি বলছিলেন, আবার তুমি সম্বোধন করছিলেন, আমি আগ বাড়িয়ে তাঁকে বললাম, এটাতো বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরীর শ্লোগান মাত্র, ----------- 
" অপরিচিতজনকে আপনি বলুন  "।  এতদিন না হয় অপরিচিত ছিলাম এখন তো পরিচিত হয়ে গেছি, এখন তুমি বললেই বেশী মানানসই হবে, তাছাড়া ছোটভাইদেরকে তো বাঙালী রীতিতে তুমি সম্বোধনই হৃদ্যতার পরিচয় বাহী। আমি তাঁকে আশ্বস্ত করলেও তাঁর অন্যকে সম্মান করার গুন তাঁকে আপনির দিকেই টেনে নিয়ে গেল। ব্যক্তিগত জীবনে আমি চল্লিশের কাছাকাছি বয়সী এবং এক স্ত্রী ও একসন্তানের অধিকারী হলেও, এই ঘটনা ফাঁস করার পূর্ব পর্যন্ত অনেককেই বিভ্রান্তিতে পড়তে দেখেছি। আমার মাতৃকুলেও আমি এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি, এতে অসুবিধার চাইতে সুবিধাই বেশী বলে আমি মনেকরি।

            খুব দ্রুত খাওয়া দাওয়া সারারর পরিকল্পনা থাকলেও সহজে উঠতে পারলামনা, টেবিল ভর্তি খাবার আইটেম আর আপার মেহমানদারী ভরাপেটে খাঁড়ার ঘায়ের মতো হলেও মুখ বন্ধ করে এই মিষ্টি খাড়ার ঘা সহ্য করে যাচ্ছিলাম, ভরাপেটের কারন আগের পর্বে বর্ণনা করেছি, এখলাস ভাইর রুমমেট এখলাস ভাবীকে খুশী রাখতে তাঁর বাসায় একদফা খেয়ে এসেছিলাম। তার কিছুকাল অব্যবহিত পরেই তাহমিনা আপার বাসায় ভুরিভোজ, নো প্রোবলেম, পেটের মেশিন চাঙা আছে, মনকে এই বলে প্রস্তুত করে নিলাম। আমাদের প্রতিটি অসাধ্য সাধনের আগে এই মাইন্ড সেটাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি সুস্হ হয়েও যদি বার বার আপনার মনকে বলেন আপনি অসুস্হ তাহলে কিছুক্ষন পরই আপনার দেহের উপর মনের সেই কু প্রভাব উপলব্দি করতে পারবেন। সুতরাং মানুষের জীবনে মনের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে পারা এক বিশাল অর্জন।
অন্তত সেদিনের জন্য হলেও আমি তা পেরেছি বলে বিধাতাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

              খাওয়া দাওয়া সারছি ঠিকি,  কিন্তু এখলাসভাইর ধান্দা ভিন্ন,,ইনিয়ে বিনিয়ে একথা ও কথার পর তাহমিনা আপাকে চেষ্টা করারাচ্ছিলেন লাইভে আনার জন্য নতুবা রবীন্দ্র সংগীত গাওয়ানোর জন্য,,,,,,,,,,,,,,((চলবে))

No comments

Powered by Blogger.