Header Ads

স্পেন টু আমেরিকা ২য় পর্ব

প্রবাসকথা এক্সপ্রেস,,,,,((দ্বিতীয় পর্ব))
স্পেন টু আমেরিকা,,,,,
-----------------------------------
-----------------------------------
-----------ফখরুদ্দীন রাজি,
রাত প্রায় একটার দিকে ফিরে এলাম এখলাস ভাইর বাসায়, ফ্রেশ হয়ে ড্রইং এটাষ্ট ডাইনিং এ চোখ পড়তেই আশংকা সত্যি হওয়ায় প্রমাদ গুনলাম, আমি মনে মনে ভাবীকে শান্ত করার বাহানা খুঁজছিলাম, বাঙালী রমনী নিজহাতে রান্নাকরা খাবার পরিবেশন করতে ব্যর্থ হলে তার মনের অবস্হা কি হয় তা বোধকরি কমবেশী সকলেই অবগত আছেন। আমি ভাবীর মনের কথা বিবেচনা করে সত্যি সত্যি আরেক দফা খেতে বসে পড়ারজন্য মানষিক প্রস্তুতি গ্রহন করছিলাম, আর তলে তলে বিধাতাকে বলছিলাম বিধাতা আজকের জন্য না হয় হজমি মেশিনের জোরটা একটু বাড়িয়ে দাও প্লীজ,,,। খাবারগুলো ডাইনিং টেবিলে সাজানোই ছিল, এখলাসভাই ভাবীকে শুনিয়ে শুনিয়ে বার বার আফসোস করছিলেন, আমি ও টেনশন না নিতে এখলাস ভাইকে এ বলে আশ্বস্ত করছিলাম যে আমি আছিতো বার্সেলোনায়, খাওয়া নিশ্চয়ই হবে, নো টেনশন,,,,! অবশেষে পরিস্হিতির আনুকুল্য বিবেচনায় আমরা পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে চলে গেলাম।,,,,,,,,
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে মহান বিধাতাকে নজরানা পেশ করে আমার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রেডী হয়ে গেলাম। দেখি এখলাস ভাই একগাল হাসি নিয়ে ডাইনিং টেবিল ধরে দাঁড়িয়ে আছেন, অন্যদিকে কিচেনে টুং টাং আওয়াজ, মানে ওখানে কেউ বাজনা বাজাচ্ছেননা, ওখানে চায়েরকাপে ধুম্র উদগীরনের কসরত চলছিল, আমি এতভোরে ওনাদের এই কসরত দর্শনে বিস্মিত হলাম একই সাথে লজ্জিত হলাম একারনে যে এই নেহায়েত ভদ্র ও সজ্জন দম্পতিকে খামোখাই এক উটকো ঝামেলায় নিক্ষেপ করেছি বলে। এখলাস ভাইর সহাস্য সম্ভাষনে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসে পড়লাম নাস্তার টেবিলে, এমন নির্মল সকালে নিখাঁদ ভালোবাসা মিশ্রিত ব্রেকফাস্ট সুন্দর দিনশুরুর ইঙ্গিতবাহী বৈকি।
নাস্তা শেষে এককাপ ধোঁয়া ওঠা টাটকা চা দেহের ইন্দ্রিয় রাজীকে চাঙা করে তুললো। আমি তাঁদের শুকরিয়া জানিয়ে বের হতে উদ্যত হতেই এখলাসভাই আমাকে এগিয়ে দিতে রেডী হয়ে গেলেন। আমি তাঁকে নিবৃত্ত করলাম।
সকাল ৯:০০টা থেকে আমার কোর্স কর্মসুচী শুরু হয়ে চললো একটানা ২:০০টা পর্যন্ত,মোবাইল বন্ধ ছিল, অন করতেই দেখি এখলাসভাইর কলের লিষ্ট। ব্যক করতেই উৎকন্ঠা নিয়ে বললেন, রাজি ভাই আপনি কোথায়? তাহমিনা আপা প্রচন্ড ক্ষুব্দ, আমার বার্সেলোনার ভিসা বাতিল হওয়ার পথে, ভাই আমারে উদ্ধার করেন প্লীজ! একদিকে বেলা তিনটায় কোর্সের দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতেই আমার স্পীচ ডেলিভারী, অন্যদিকে এখলাসভাইর তাড়া, আমি নার্ভাস ফিল করছিলাম, আর কল্পনায় তাহমিনা আপার উৎকন্ঠিত মুখাবয়ব অন্কন করে চলছিলাম, অবশেষে বেলা ৪:০০টার দিকে এখলাস ভাইর সাথে পুনরায় মিলিত হলাম, একদফা খাওয়া দাওয়া হয়ে গেল ইনার বাসায়, তাঁর বাসা থেকে বিদায় নেয়ার সময় নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোর করুন চাহনি আমার অন্তরাত্মাকে কাঁপিয়ে তুলছিল। একদিনের পরিচয়েও মানুষ কতখানি আপন হতে পারে তা সেদিন আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোর মুখাবয়ব আজো আমার নজরে ভাসছে। তাদের এই ভালোবাসায় স্বার্থের কোন টান ছিলনা, ছিলনা কোন কৃত্রিম প্রলেপ। কেবল নির্ভজাল ভালোবাসার দৃষ্টিতে আমি ছিলাম তাদের একদিনের পরিচিত বন্ধু ও আন্কেল। আসলে প্রবাসে বাচ্চারা নিজস্ব কালচারে অভ্যস্ত স্বজনের দেখা কমই পায়। এ বিবেচনায় প্রবাসকথা আমাদের বাচ্চাদের জন্য এক অনবদ্য সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে বললেও বোধকরি বাড়িয়ে বলা হবেনা।
এবার তাহমিনা আপার বাসায় যাওয়ার পালা, আপার জন্য কি নিয়ে যাই! কি নিলে আপা খুশি হবেন বেশী,আমি আর এখলাস ভাই তা গবেষনা করে সংগ্রহে লেগে গেলাম। বাংগালী দোকান থেকে চেপা শুটকি,প্যাকেটজাত ঝালমুড়ি, চানাচুর, আসন্ন ইদের আগে আগে সেমাই, সব এখলাস ভাইর সাজেশন, পান আর সুপারী হন্যে হয়ে খুঁজেও পাইনি, এখলাস ভাই একটা একটা করে এইসব পিকুলিয়ার দ্রব্য সামগ্রী সংগ্রহ করছিলেন আর তাহমিনা আপার সম্ভাব্য কমেন্টসগুলো আবৃত্তি করতে করতে তাঁর স্বভাবসুলভ নিষ্কলুষ হাসিতে ফেটে পড়ছিলেন, তাহমিনা আপার বাসায় গিয়ে আমি তার সেই সম্ভাব্য কমেন্টস গুলোর সত্যতার প্রমান পেয়ছি। কি অনুপম আন্ডারস্ট্যান্ডিং, এযেন রক্তের বাঁধনের চাইতেও ঢের কিছু!
আমরা তাহমিনা আপার বাসায় পৌছাই বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে,,,,,,,,,
--------------(চলবে)----------------

No comments

Powered by Blogger.