ঘুরে এলাম ইবনে বতুতার দেশ মরক্কো
(পর্ব-----০১)
মরক্কো, বিশ্ব বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনেবতুতার দেশ, ইউরোপের সীমান্তবর্তী মুসলিম প্রধান দেশ। প্রাথমিক পাঠ্যপুস্তকের কল্যানে ইবনে বতুতাকে চিনেনা এমন বাঙালী বোধ হয় হাতে গোনা, বাংলায় শায়েস্তা খাঁনের শাসন আমলে টাকায় আটমন চাল পাওয়া যেত এমন বর্ণনার তথ্যসুত্র এই বিশ্ব বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা। মরক্কো আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত হলেও তারা আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত নয়, এটি আরবলীগের সদস্য। জ্ঞান বিজ্ঞানে মরক্কোর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস, পৃথিবীর সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় মরক্কোর ফেজ শহরে অবস্হিত। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতাকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ মরক্কো, আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ সমুহকে নিরাপত্তা প্রদানকরার মতো হিম্মত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে টেক্কা দিয়ে কুটনৈতিক নৈপুন্য প্রদর্শনকারী দেশ মরক্কো। দক্ষিন এশিয়া সহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের জীবিকানুসন্ধানী মানুষের ইউরোপে প্রবেশের এক পছন্দনীয় রুট মরক্কো। মরক্কোর নারীদের গড় উচ্চতা ও চামড়ার রং আকর্ষনীয় সাদা হওয়ায় উপ মহাদেশীয় মুসলমান তথা বাঙালী মুসলমানদেরকে মরক্কোর নারীকুলের প্রতি বিশেষ দূর্বলতা প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
জীবিকার সন্ধানে স্পেনে প্রবাসী হওয়ার পর থেকে মুসলমান কলিগ বা সঙ্গী বলতে মুলত মরক্কোর সিটিজেনদেরকেই দেখে এসেছি অহরহ, মরক্কো স্পেন ও ফ্রান্সের লাগোয়া দেশ হওয়ায় এ দেশগুলোতে এদের বিপুল উপস্হিতি পরিলক্ষিত হয়। এদের কেউ কেউ খুবই অমায়িক আবার কেউ কেউ শয়তানের ও ওস্তাদ হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন। মাদ্রিদে বসবাসকারী মরক্কান নাগরিকদের বেশীর ভাগই আবর্জনা প্রকৃতির হওয়ায় মরক্কো সম্পর্কে মাদ্রিদে বসবাস করা প্রবাসীদের মনে এক অজানা আতংক ও ঘৃনা বিরাজমান, কিন্তু বাস্তব সত্য হলো মাদ্রিদের বাইরে আমি অত্যন্ত অমায়িক ভদ্র ও সুশিক্ষিত মরক্কান নাগরিকদের দেখেছি ও সান্নিধ্য পেয়েছি। সেই থেকে সরেজমীন মরক্কো ঘুরে এর সম্পর্কে জানতে মনের গহীনে অনেক আগ থেকেই একটি বাসনা বিরাজমান ছিল।
অনাকাংখিত ভাবেই আকস্মিক লালিত বাসনা পুরনের সুযোগ জুটে গেল। আমার সাথে আমাদের টিমে ছিলেন এগারো পরিভ্রমনকারী,এঁদের সকলেই মাদ্রিদ প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী তথা সৌখিন ও হুজুগে প্রকৃতির। হুজুগের উদগাতা গ্লোবাল মানি ট্রান্সফার এজেন্সীর স্বত্বাধিকারী আবুবকর আব্দুল্লাহ। বন্ধুবর ভ্রাতৃপ্রতিম আব্দুল্লাহ আমাকে বললেন চলেন মরক্কো ঘুরে আসি, প্রশ্ন করলাম আর কে কে যাচ্ছে, বললেন আল বারাকা সমবায় সমিতির প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারী সহ আরো কতিপয় ব্যক্তিবর্গ সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, আপনি রাজি হলে টিম পূর্ন হবে। আল বারাকা সমিতির সভাপতি ঢাকা ফ্রুতাস কোম্পানীর স্বত্বাধিকারী আল আমিন ভাই নানান কারনেই আমার পছন্দের মানুষ হওয়ায় এবং তিনিও আমাদের সফরসঙ্গী হবেন জেনে আমি রাজি হয়ে যাই। সপ্তাহের মধ্যেই সকলের টিকিট কাটার দায়িত্ব ও সকলকে ম্যানেজ করে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত নিয়ে আসেন আবুবকর আব্দুল্লাহ স্বয়ং। আমি আমার দোকান- ব্যবসা ফেলে না যাওয়ার গোঁ ধরলে তিনি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের দুইজন কর্মকর্তার একজনকে প্রেষণে আমার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করেন। অন্য আরো দু একজন যাত্রীকে ও তিনি ম্যানেজ করেন তাঁর অসাধারন আন্তরিকতার নৈপুণ্য দিয়ে।
আল আমিন ভাই ও তাঁর ঢাকা ফ্রুতাস মাদ্রিদের উল্লেখযোগ্য বৃহত্তম বাংলাদেশী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রেমিটেন্স প্রবাহ বিবেচনায় এ ভদ্রলোক আরো অনেক আগেই বাংলাদেশে CIP ফ্যাসিলিটি পাওয়ার যোগ্যতাধিকারী হলেও এসবের প্রতি তাঁর থোড়াই তোয়াক্কা, ব্যক্তিগত ভাবে প্রচন্ড ব্যস্ত ও প্রায় অর্ধশত রিটেইল শপের মালিক আল আমিন ভাই নির্দিষ্ট সময়ে এয়ারপোর্টে পৌছেই ফোন আপনারা কোথায়? আমরা তখনো আমাদেরকে বহনকরতে আসা গাড়ীর দরজায় উঠার অপেক্ষায়। বললাম আসছি, আমাদের ফ্লাইট এগারোটায়, বোর্ডিং দশটায় সুতরাং বিমানবন্দরে পৌছার সময় ছিল সকাল নয়টায়। আমরা সাড়ে নয়টায় পৌছে দেখি আলআমিনভাই ও আলম ভাই আমাদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। একে একে লাইনে দাঁড়িয়ে বোর্ডিং পাশ নিলাম।
এদিকে সকালের নাস্তার দাবীতে পেটের মধ্যস্হিত বায়োলোজিকাল অর্গ্যান সমুহ তুমুল হৈচৈ জুড়ে দিল, ঠিক এমনি মুহুর্তে কমলার মৌ মৌ গন্ধ নাসারন্ধ্রে এক সুখের আবেশ ছড়িয়ে দিল, আল আমিন ভাই তাঁর সাথে বহন করে আনা বিরাট গাঁটুরি খুলে সবাইকে একজোড়া করে মিষ্টি কমলা বিলি করছেন, এটা সেই কমলার ঘ্রান! নরসিংদী সমিতির সাধারন সম্পাদক মিলন ভাই প্রচন্ড উছ্বসিত হয়ে নানান চটকদার উক্তি সহকারে কমলার রস আস্বাদন করে কমলার স্বাদ দ্বিগুন বাড়িয়ে দিলেন। গোটা টিমে প্রাণ সঞ্চারি এই কমলা আর তার রস, সেই সাথে রসালো উক্তি সফরের প্রারম্ভে এক শুভ সুচনার-ই ইঙ্গিত ছড়িয়ে দিল। নোয়াখালী সমিতির সাধারন সম্পাদক আবু সায়েম মজুমদারের আঞ্চলিক ভাষার প্রধান্য সম্বলিত টিপ্পনী ছিল আনন্দ ও মজার ভিন্নমাত্রা। আসলে বয়স ও দায়িত্বের ভারে মানুষ ন্যুজ হলেও উপযুক্ত পরিবেশে প্রতিটি মানুষেরই লুকায়িত সবুজ মানুষিকতা,,,,,,,
---------(চলবে)
মরক্কো, বিশ্ব বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনেবতুতার দেশ, ইউরোপের সীমান্তবর্তী মুসলিম প্রধান দেশ। প্রাথমিক পাঠ্যপুস্তকের কল্যানে ইবনে বতুতাকে চিনেনা এমন বাঙালী বোধ হয় হাতে গোনা, বাংলায় শায়েস্তা খাঁনের শাসন আমলে টাকায় আটমন চাল পাওয়া যেত এমন বর্ণনার তথ্যসুত্র এই বিশ্ব বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা। মরক্কো আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত হলেও তারা আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত নয়, এটি আরবলীগের সদস্য। জ্ঞান বিজ্ঞানে মরক্কোর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস, পৃথিবীর সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় মরক্কোর ফেজ শহরে অবস্হিত। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতাকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ মরক্কো, আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ সমুহকে নিরাপত্তা প্রদানকরার মতো হিম্মত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে টেক্কা দিয়ে কুটনৈতিক নৈপুন্য প্রদর্শনকারী দেশ মরক্কো। দক্ষিন এশিয়া সহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের জীবিকানুসন্ধানী মানুষের ইউরোপে প্রবেশের এক পছন্দনীয় রুট মরক্কো। মরক্কোর নারীদের গড় উচ্চতা ও চামড়ার রং আকর্ষনীয় সাদা হওয়ায় উপ মহাদেশীয় মুসলমান তথা বাঙালী মুসলমানদেরকে মরক্কোর নারীকুলের প্রতি বিশেষ দূর্বলতা প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
জীবিকার সন্ধানে স্পেনে প্রবাসী হওয়ার পর থেকে মুসলমান কলিগ বা সঙ্গী বলতে মুলত মরক্কোর সিটিজেনদেরকেই দেখে এসেছি অহরহ, মরক্কো স্পেন ও ফ্রান্সের লাগোয়া দেশ হওয়ায় এ দেশগুলোতে এদের বিপুল উপস্হিতি পরিলক্ষিত হয়। এদের কেউ কেউ খুবই অমায়িক আবার কেউ কেউ শয়তানের ও ওস্তাদ হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন। মাদ্রিদে বসবাসকারী মরক্কান নাগরিকদের বেশীর ভাগই আবর্জনা প্রকৃতির হওয়ায় মরক্কো সম্পর্কে মাদ্রিদে বসবাস করা প্রবাসীদের মনে এক অজানা আতংক ও ঘৃনা বিরাজমান, কিন্তু বাস্তব সত্য হলো মাদ্রিদের বাইরে আমি অত্যন্ত অমায়িক ভদ্র ও সুশিক্ষিত মরক্কান নাগরিকদের দেখেছি ও সান্নিধ্য পেয়েছি। সেই থেকে সরেজমীন মরক্কো ঘুরে এর সম্পর্কে জানতে মনের গহীনে অনেক আগ থেকেই একটি বাসনা বিরাজমান ছিল।
অনাকাংখিত ভাবেই আকস্মিক লালিত বাসনা পুরনের সুযোগ জুটে গেল। আমার সাথে আমাদের টিমে ছিলেন এগারো পরিভ্রমনকারী,এঁদের সকলেই মাদ্রিদ প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী তথা সৌখিন ও হুজুগে প্রকৃতির। হুজুগের উদগাতা গ্লোবাল মানি ট্রান্সফার এজেন্সীর স্বত্বাধিকারী আবুবকর আব্দুল্লাহ। বন্ধুবর ভ্রাতৃপ্রতিম আব্দুল্লাহ আমাকে বললেন চলেন মরক্কো ঘুরে আসি, প্রশ্ন করলাম আর কে কে যাচ্ছে, বললেন আল বারাকা সমবায় সমিতির প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারী সহ আরো কতিপয় ব্যক্তিবর্গ সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, আপনি রাজি হলে টিম পূর্ন হবে। আল বারাকা সমিতির সভাপতি ঢাকা ফ্রুতাস কোম্পানীর স্বত্বাধিকারী আল আমিন ভাই নানান কারনেই আমার পছন্দের মানুষ হওয়ায় এবং তিনিও আমাদের সফরসঙ্গী হবেন জেনে আমি রাজি হয়ে যাই। সপ্তাহের মধ্যেই সকলের টিকিট কাটার দায়িত্ব ও সকলকে ম্যানেজ করে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত নিয়ে আসেন আবুবকর আব্দুল্লাহ স্বয়ং। আমি আমার দোকান- ব্যবসা ফেলে না যাওয়ার গোঁ ধরলে তিনি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের দুইজন কর্মকর্তার একজনকে প্রেষণে আমার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করেন। অন্য আরো দু একজন যাত্রীকে ও তিনি ম্যানেজ করেন তাঁর অসাধারন আন্তরিকতার নৈপুণ্য দিয়ে।
আল আমিন ভাই ও তাঁর ঢাকা ফ্রুতাস মাদ্রিদের উল্লেখযোগ্য বৃহত্তম বাংলাদেশী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রেমিটেন্স প্রবাহ বিবেচনায় এ ভদ্রলোক আরো অনেক আগেই বাংলাদেশে CIP ফ্যাসিলিটি পাওয়ার যোগ্যতাধিকারী হলেও এসবের প্রতি তাঁর থোড়াই তোয়াক্কা, ব্যক্তিগত ভাবে প্রচন্ড ব্যস্ত ও প্রায় অর্ধশত রিটেইল শপের মালিক আল আমিন ভাই নির্দিষ্ট সময়ে এয়ারপোর্টে পৌছেই ফোন আপনারা কোথায়? আমরা তখনো আমাদেরকে বহনকরতে আসা গাড়ীর দরজায় উঠার অপেক্ষায়। বললাম আসছি, আমাদের ফ্লাইট এগারোটায়, বোর্ডিং দশটায় সুতরাং বিমানবন্দরে পৌছার সময় ছিল সকাল নয়টায়। আমরা সাড়ে নয়টায় পৌছে দেখি আলআমিনভাই ও আলম ভাই আমাদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। একে একে লাইনে দাঁড়িয়ে বোর্ডিং পাশ নিলাম।
এদিকে সকালের নাস্তার দাবীতে পেটের মধ্যস্হিত বায়োলোজিকাল অর্গ্যান সমুহ তুমুল হৈচৈ জুড়ে দিল, ঠিক এমনি মুহুর্তে কমলার মৌ মৌ গন্ধ নাসারন্ধ্রে এক সুখের আবেশ ছড়িয়ে দিল, আল আমিন ভাই তাঁর সাথে বহন করে আনা বিরাট গাঁটুরি খুলে সবাইকে একজোড়া করে মিষ্টি কমলা বিলি করছেন, এটা সেই কমলার ঘ্রান! নরসিংদী সমিতির সাধারন সম্পাদক মিলন ভাই প্রচন্ড উছ্বসিত হয়ে নানান চটকদার উক্তি সহকারে কমলার রস আস্বাদন করে কমলার স্বাদ দ্বিগুন বাড়িয়ে দিলেন। গোটা টিমে প্রাণ সঞ্চারি এই কমলা আর তার রস, সেই সাথে রসালো উক্তি সফরের প্রারম্ভে এক শুভ সুচনার-ই ইঙ্গিত ছড়িয়ে দিল। নোয়াখালী সমিতির সাধারন সম্পাদক আবু সায়েম মজুমদারের আঞ্চলিক ভাষার প্রধান্য সম্বলিত টিপ্পনী ছিল আনন্দ ও মজার ভিন্নমাত্রা। আসলে বয়স ও দায়িত্বের ভারে মানুষ ন্যুজ হলেও উপযুক্ত পরিবেশে প্রতিটি মানুষেরই লুকায়িত সবুজ মানুষিকতা,,,,,,,
---------(চলবে)




No comments