Header Ads

স্পেন টু আমেরিকা শেষ পর্ব

প্রবাসকথা এক্সপ্রেস
স্পেন টু আমেরিকা
------------------------------------(চতুর্থ পর্ব)

                -----------ফখরুদ্দীন রাজি,
তৃতীয় পর্বে তাহমিনা আপার সারল্য ও আতিথেয়তার বর্ণনা দেয়ার পর আমি ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, অতঃপর প্রবাস কথায় ছবি ও ফটোধামাকায় বিজি থাকার পর আজ পুনরায় বার্সেলোনার সেই মহেন্দ্রক্ষনের কথা আপনাদের স্মরণ করিয়ে দেয়ার প্রয়াস চালাচ্ছি।
               তাহমিনা আপার ঘরলাগোয়া একচিলতে উম্মুক্ত আঙিনা, হালে তা আর আঙ্গিনা নেই, প্রকৃতির প্রতি তাহমিনা আপার  অপার-প্রেমের নিদর্শনস্বরূপ সেই আঙ্গিনাখানি সেজেছে হাস্নাহেনা, সন্ধ্যামালতী, গোলাপ, টগর, কলাবতী,বেলী, বাহারী মরিচ, ঘৃতকুমারী আর নানানজাতের সবুজ সতেজ পত্রপল্লবে।
                এখলাসভাই আগেই বলেছিলেন, এই একটুকরো বাগান তাহমিনা আপার একটুকরো স্বপ্ন, বাগানে এসে তাহমিনা আপার উৎফুল্লচিত্ততা এখলাসভাইর কথার সত্যতার প্রমান দিল। আমি এখলাসভাইকে বললাম আমাদের আজকের সম্মিলনির নেপথ্যনায়ক শাহইমরান ভাইকে ভিডিও কলদিয়ে উনাকেও তাহমিনা আপার বাগানে নিয়ে আসা হউক, তাহমিনা আপা ভাবলেন আমরাবুঝি প্রবাসকথায় লাইভের কথা বলছি, তিনি রেই রেই করে উঠলেন, আমি প্রস্তুত নই, আমি সাজগোজ করিনি,,,,। আমরা প্রসঙ্গ পাল্টালাম, ফিরে এলাম বাগান প্রসঙ্গে, তাহমিনা আপা প্রবল উৎসাহে প্রত্যেকটি গাছের ইনডিভিজুয়াল লাইফ হিস্টিরি বলতে লাগলেন, বুঝলাম এ গাছগুলো উনার কাছে সন্তানের চাইতে কোন অংশে কম নয়। মানুষ প্রকৃতি প্রেমিক হয় কিন্তু এতটা হৃদয় সংবেদী প্রকৃতি প্রেমিক আমি কমই দেখেছি।
                     উনার উৎসাহের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা ঘ্যাচাং, ঘ্যাচাং কয়েকটি ছবি তুললাম। বন্দীহলাম স্মৃতির ফ্রেমে।  আস্তে আস্তে দিনের আলোর যবনিকাপাত ঘটতে যাচ্ছে, এমনি এক মোহময় মুহুর্তে আমরা তাহমিনা আপার কাছ থেকে বিদায় নিতে উদ্যত হলাম। ছল ছল নয়নে তাহমিনা আপা আমাদের দিকে তাকিয়ে তাঁর আবেগমাখা কথাগুলো বলে যাচ্ছিলেন, বিদায় নিয়েও নেয়া হচ্ছেনা, তাহমিনা আপা হাটতে হাটতে গেটের বাইরে এলেন, এখলাস ভাইকে একটি বাড়ী দেখিয়ে ওখানে চলে আসতে বলছিলেন, এ যেন নিজের স্বজনকে কাছে রাখার আকুল প্রয়াস, প্রবাসকথা এমন স্বজন তৈরী করেছে, আর তৈরী করেছে স্বজন-প্রীতি, আজ প্রবাসকথার এডমিন মঞ্জুরুল করিমকেও রেকর্ডেড লাইভে  এই স্বজনপ্রীতির গুন গাইতে দেখলাম। জয়তু স্বজনপ্রীতি!
                       অবশেষে নিলাম, আমরা বিদায় নিলাম, আমি কৌতুহল বশঃত পেছন ফিরে ফিরে দেখছিলাম তাহমিনা আপা ঠাঁয় দাড়িয়ে তাঁর উত্তমকপি বড়মেয়ে সহ আমাদের প্রস্হান দৃশ্য দেখছিলেন, মানুষের সারল্য বরাবরই আমাকে আকৃষ্ট করে, কিন্তু এমন সারল্য আর নিখাঁদ ভালোবাসা আমার হৃদয়ে দাগ কেটেছে, একটি ভালোলাগার দাগ, ভালোবাসার দাগ, তাহমিনা আপাদের মতো মানুষ আছে বলেই পৃথিবী এতো সুন্দর! ভালো থেকো তাহমিনা আপা! বিদায়!
                        এবার আপনাদেরকে শোনাবো আরেকজন সাদামনের মানুষ এখলাস ভাইর সারল্যের বাকী কথা, আমাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দাওয়াত খাওয়ানো এখলাস ভাই আমাকে নিয়ে চলছিলেন স্টেশনের দিকে,  টিকেট কেটে ট্রেনে বা বাসে তুলে দিবেন বলে, আমি উনাকে ছুটি দিয়ে দিতে চাইছিলাম, কিন্তু নাছোড় বান্দা হয়ে আমাকে রাত দশটার বাসে বসিয়ে তবেই তিনি ফিরলেন, এমন উদার নিঃস্বার্থবাদী মানুষেরা  যতদিন  প্রবাসকথার সাথে থাকবে ততদিন পথহারাবেনা এই কমিউনিটি।
                      আমি শ্রদ্ধারসাথে স্মরনকরছি, জিনাতসফিক আপাকে যিনি বারবার অনুরোধ করা সত্বেও সময় স্বল্পতার কারনে তাঁর আতিথেয়তা গ্রহন করতে পারিনি।
                        আমি ফিরে এলাম মাদ্রিদে,  তাহমিনা আপার দেয়া হাস্নাহেনার একটি চারাও আমার সাথে বাসে চেপে মাদ্রিদ চলে এলো,
                        যে কথা বলছিলাম, একটি ভার্চুয়াল ইনস্টিউট বা প্লাটফর্মকে কেন্দ্র করে পৃথিবীতে অনেক তুলকালাম কান্ডই ঘটছে ঘটেছে, তিউনিশিয়ার বিপ্লব তার একটি বড় উদাহরন।
আরব বসন্তের থিম প্রোভাইডার ও এই ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম। পৃথিবী ক্রমান্বয়েই ভার্চুয়াল কমিউনিটি নির্ভর হয়ে উঠছে। তেমনি প্রবাসকথার এই কমিউনিটি ও ক্রমেই কঠিন প্রাচীরে পরিনত হয়ে উঠবে এটা আমার দৃড় বিশ্বাস।
                     আমি যখন এই স্মৃতিকথন লিখতে বসেছি, তখনই আমার চোখে পড়ল প্রবাস কথার উড়াল কন্যা ডানামির্জা আমেরিকায় শেখ ফরহাদ ভাইর বাসায় বেড়াতে যাচ্ছেন, আর ফরহাদভাই বোনের আগমন প্রতীক্ষায় ভাবী ও তার দলবলসহ তোড়জোড় করছিলেন, এই যে প্রাণের উচ্ছলতা আর পারষ্পরিক মেলবন্ধন,  একে অন্যকে পারিবারিক বন্ধনআলিঙ্গনের উদার চিত্ততা তা সত্যিই বিরল। আমি ও তাই আমার লেখার শিরোনাম নির্বাচন করেছি "প্রবাসকথা এক্সপ্রেস, স্পেন টু আমেরিকা" । ইতোমধ্যে বন্ধুবর এস,পি মাসুদ ভাই ইতালী ও সুইজারল্যান্ড সফরে গিয়েও পারিবারিক বন্ধনে তাঁর অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে লাইভ শেয়ার করেছেন, এভারগ্রীন গুলজারভাই সহ আরো আরো অনেককেই আমরা দেখেছি কিভাবে একে অন্যকে আলিঙ্গন করেছেন ভালোবাসার বন্ধনে।
 আমাদের এই ভালোবাসা অটল থাকুক অটুট থাকুক। 
       
প্রবাসকথার প্রতিটি শুভ উদ্যোগ একেকটি মাইলফলক হয়ে আগামীদিনে যখন ভার্চুয়াল কমিউনিটিতে সুবাস ছড়াবে, অর্জন করবে অঢেল সম্মান, তখন অনেকের সাথে গাদাগাদি ভীড়ে শির উঁচুকরে দাঁড়িয়ে বলবো আমিও আছি এই কমিউনিটির সাথে, সেদিন আমায় তুমি ভুলে যেওনা প্রবাস কথা, আমিও তোমার অকৃত্তিম বন্ধুদের একজন, তুমি ভালো থেকো,  যুগ যুগ জিয়ো
প্রবাসকথা,,,,,,,।।
                            -----সমাপ্ত----

No comments

Powered by Blogger.