* সাহসী প্রেমিক *
--------------তাহমিনা নাহার------------
১৮-১১-২০১৭
-------------------------
* কিছু কিছু প্রেমিক আছে, হৃদয়টা ভরা প্রেমে, কিন্তু প্রকাশের ভাষাটা নেই। বক্ষভরা প্রেম নিয়ে একাই ঘুরে বেড়ায়, একাই কথা বলে, স্বপ্ন দেখে,বলতে না পারার কষ্টে অসুস্থ্য হয়। কিন্তু যার জন্য এতো কিছু তাকে মুখ ফুটে বলার সাহস একবারও হয়না, যদিওবা বলতে যায়, প্রেমিকাকে দেখলে গলা শুকিয়ে সব কথা দলা পাকিয়ে যায়। এমনি এক প্রেমিক হলো রাহুল।
--শহরের ঠিক মাঝখানটিতে তাদের বাড়ী, তিনতলা বাড়ীটার মাঝখানের ফ্ল্যাটটিতে বাবা,মা আর একটি বোন সহ রাহুলের বাস। উপরের আর নীচের দুটো ফ্ল্যাট ভারা দেয়া। রাহুল খুব চুপচাপ আর অতিরিক্ত লাজুক ধরণের ছেলে, দেখতে শুনতে বেশ, অনার্সে পড়েও।
--নীচের তলার ভারাটিয়া মেয়ে নীতু রাহুলকে পছন্দ করে, তবে বলেনি তাকে কখনো। ভেবেছে বলবে একদিন, তাছাড়া যে লাজুক ছেলে, যাবেইবা কোথায়! আর সেই লাজুক ছেলে যে এমন একটা কান্ড বাঁধিয়ে বসবে তাকি নীতু ভেবেছিলো!
--বেচারী নীতু একদিন সকালবেলা ক্লাসে গিয়ে মন খারাপ করে তার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবীটাকে বলছে,
" মহুয়া, আমাকেতো কখনো বলিসনি তুই রাহুলকে ভালোবাসিস।
" কি? কে বলেছে তোকে এসব? আমিতো রাহুলের নামটা শুনেছি তোর কাছে, ভালো করে চিনিওনা তাকে। কেন বলছিস এ' কথা?
" রাহুলের অনেক জ্বর হয়েছিলো গতরাতে।
"তো কি হয়েছে, জ্বর কি মানুষের হয়না? আর আমাকেইবা বলছিস কেন এ' কথা?
"না, জ্বরতো ব্যাপার নয়,প্রচন্ড জ্বরের ঘোরে সে তোর নাম বলছিলো
" কি, কি? কি বললি? মাই গড! কেন,আমার নাম কেন বলছিলো?
" সেটা আমি কিভাবে বলবো?
" আমিই যে সে মহুয়া, কিভাবে বুঝলি? আমিতো তার সাথে কখনো কথাই বলিনি। কলেজে যাওয়া আসার পথে সে আমাকে দেখে কিনা আমি তাও জানিনা।
" আচ্ছা ঠিক আছে আজ বাসায় গিয়ে জেনে নেবো।
" তুই যে তাকে ভালোবাসিস, এই সুযোগে সে কথাটা জানিয়ে দিস।
--মহুয়া বেশ সুন্দরী আর চটপটে মেয়ে, সবকিছুতেই মজা করা মহুয়ার স্বভাব। নীতুর কাছ থেকে রাহুলের ব্যপারটা জানার পর থেকে বেশ মজা পাচ্ছে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কাল সকালের, কখন কলেজে যাবে, কখন রাহুলকে নিয়ে মজা করবে নীতুর সাথে।
-- অন্যদিকে নীতু বাসায় ফিরে রাহুলকে দেখতে গিয়েছে,
" আজ কেমন আছেন রাহুল ভাই।
" হুম, ভালো আছি।
" আচ্ছা, আপনি জ্বরের ঘোরে মহুয়ার নাম কেন বলছিলেন?
" মহুয়ার নাম বলছিলাম? আমিতো জানিনা!
" আচ্ছা, আপনি কি মহুয়াকে পছন্দ করেন?
রাহুল সে কথার জবাব দেয়না।
" আচ্ছা বলুনতো, কোন মহুয়ার কথা বলছি আমরা এখন?
" তোমার বন্ধু।
" কিভাবে চেনেন তাকে? কথা হয়েছে কখনো?
" নাহ্, বাসার সামনে দিয়ে কলেজে যায় প্রতিদিন---। তোমার সাথেও দেখেছি।
" মহুয়াকে ভালোবাসেন?
এবারও রাহুলের কোন জবাব নেই। নীতুর বুঝতে অসুবিধা হয়না। দীর্ঘশ্বাস চেপে রাহুলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে নীতু। অনেকক্ষন পর রাহুল জবাব দেয় খুব আস্তে।
" হুম, বাসি।
আর কোন কথা নেই দুজনের। নীতুর ভেতরের কষ্ট বুঝার মতো ক্ষমতা রাহুলের নেই। তাইতো নীতুকেই বলে ফেললো,
" আমি যে তাকে ভালোবাসি, সেকথা মহুয়াকে তুমি জানাবে প্লীজ!
" আপনি নিজেই বলুননা কেন? দেখা করতে চান মহুয়ার সাথে?
" হুম।
-- সকালবেলা মহুয়া আগবাড়িয়ে নীতুকে জিজ্ঞেস করছে,
" কিরে কি খবর? কি বলেছে?
" তুই ই সে মহুয়া।
" কি বলিস, আমাকে সে কিভাবে চেনে?
" যাওয়া আসার পথে দেখেছে, আমার সাথে দেখেছে। তোকে কিছু বলতে চায়, দেখা করতে চায় তোর সাথে।
" আমার কথা বাদদে, তুইযে ওকে ভালোবাসিস সেকথা বলেছিলি?
" নাহ্, কি হবে বলে! সেতো আমাকে ভালোবাসেনা। দেখা করবি?
" নাহ্, আমি ওকে ভালোবাসিনা।
" সেকথাটাই না হয় বলে আসবি।
" আচ্ছা বলে আসবো।
-- একদিন ক্লাসের পর মহুয়া অপেক্ষা করছে রাহুলের জন্য একটা পার্কে। শুকনো গাছের গুড়িতে বসে আছে মহুয়া, পাদুটো একটু সামনের দিকে বাড়ানো, নেইলপলিশ লাগানো, একপায়ের গোড়ালীতে একটা পায়েল পড়ে আছে। মুখের সামনে একটা বই মেলে ধরে রেখেছে। মনে হচ্ছে খুব মনযোগ দিয়ে কিছু পড়ছে। আসলে কিন্তু তা নয়। দেখতে চায় রাহুল প্রথম কি বলে। কেউ এসে সামনে দাঁড়িয়েছে বুঝেছে মহুয়া। বইটা সরিয়ে একঝলক দেখে নিলো। রাহুল কোন কথা বলছেনা, যেন মহুয়াকে দেখে সব ভুলে গেছে। মহুয়া বল্লো,
" কিছু বলবেন?
" জ্বী।
" বলুন, কি বলবেন।
" আপনার পা দুটো খুব সুন্দর!
" জ্বী?
" জ্বী।
" এ' কথা বলতে এসেছেন?
" জ্বীনা।
কিছুই আর বলতে পারছেনা সাহসী প্রেমিক।
অনেকক্ষন চেষ্টা করেও কিছু বলতে পারলোনা।
মহুয়ারও বলা হলোনা, " আপনাকে ভালোবাসিনা।
একসময় মহুয়া ওঠে চলে গেলো হাসতে হাসতে। মহুয়ার হাসির অর্থ রাহুল বুঝতে পেরেছে। নিজের উপর রাগ লাগছে রাহুলের।
এরপর থেকে রাহুলকে দেখলে মহুয়ার হাসি পেতো।
রাহুল আবার দেখা করার করার ইচ্ছা ব্যক্ত করতে পারতোনা। যদি আবারও কিছু না বলতে পারে! একদিন চিঠিতেই জানালো ভালোবাসার কথা। মহুয়া সে চিঠির জবাব দেয়নি, রাহুল জবাবের অপেক্ষা করে করে আশা ছেড়ে দিয়েছে। এখন আর মহুয়াকে একনজর দেখার জন্য গ্রীলের ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে থাকেনা।
মহুয়া ব্যপারটা খেয়াল করছে, এইযে একটা ব্যতিক্রম, এটা যেন মহুয়ার ভালো লাগছেনা। কেন যেনো মনে হচ্ছে মজা করতে করতে রাহুলকে সত্যি ভালোবেসে ফেলেছে। অনেকদিন পর রাহুলের সে চিঠির জবাব দেয় মহুয়া।
" তিনবছর পর রাহুল আর মহুয়ার বিয়ে হয়েছে। রাহুল এখন বেশ চটপটে, তিন সন্তানের বাবা, মা তারা এখন। দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসে।
নীতুর ভালো বিয়ে হয়েছে। তিনজন এখন খুব ভালো বন্ধু।।
-------------------------
১৮-১১-২০১৭
-------------------------
* কিছু কিছু প্রেমিক আছে, হৃদয়টা ভরা প্রেমে, কিন্তু প্রকাশের ভাষাটা নেই। বক্ষভরা প্রেম নিয়ে একাই ঘুরে বেড়ায়, একাই কথা বলে, স্বপ্ন দেখে,বলতে না পারার কষ্টে অসুস্থ্য হয়। কিন্তু যার জন্য এতো কিছু তাকে মুখ ফুটে বলার সাহস একবারও হয়না, যদিওবা বলতে যায়, প্রেমিকাকে দেখলে গলা শুকিয়ে সব কথা দলা পাকিয়ে যায়। এমনি এক প্রেমিক হলো রাহুল।
--শহরের ঠিক মাঝখানটিতে তাদের বাড়ী, তিনতলা বাড়ীটার মাঝখানের ফ্ল্যাটটিতে বাবা,মা আর একটি বোন সহ রাহুলের বাস। উপরের আর নীচের দুটো ফ্ল্যাট ভারা দেয়া। রাহুল খুব চুপচাপ আর অতিরিক্ত লাজুক ধরণের ছেলে, দেখতে শুনতে বেশ, অনার্সে পড়েও।
--নীচের তলার ভারাটিয়া মেয়ে নীতু রাহুলকে পছন্দ করে, তবে বলেনি তাকে কখনো। ভেবেছে বলবে একদিন, তাছাড়া যে লাজুক ছেলে, যাবেইবা কোথায়! আর সেই লাজুক ছেলে যে এমন একটা কান্ড বাঁধিয়ে বসবে তাকি নীতু ভেবেছিলো!
--বেচারী নীতু একদিন সকালবেলা ক্লাসে গিয়ে মন খারাপ করে তার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবীটাকে বলছে,
" মহুয়া, আমাকেতো কখনো বলিসনি তুই রাহুলকে ভালোবাসিস।
" কি? কে বলেছে তোকে এসব? আমিতো রাহুলের নামটা শুনেছি তোর কাছে, ভালো করে চিনিওনা তাকে। কেন বলছিস এ' কথা?
" রাহুলের অনেক জ্বর হয়েছিলো গতরাতে।
"তো কি হয়েছে, জ্বর কি মানুষের হয়না? আর আমাকেইবা বলছিস কেন এ' কথা?
"না, জ্বরতো ব্যাপার নয়,প্রচন্ড জ্বরের ঘোরে সে তোর নাম বলছিলো
" কি, কি? কি বললি? মাই গড! কেন,আমার নাম কেন বলছিলো?
" সেটা আমি কিভাবে বলবো?
" আমিই যে সে মহুয়া, কিভাবে বুঝলি? আমিতো তার সাথে কখনো কথাই বলিনি। কলেজে যাওয়া আসার পথে সে আমাকে দেখে কিনা আমি তাও জানিনা।
" আচ্ছা ঠিক আছে আজ বাসায় গিয়ে জেনে নেবো।
" তুই যে তাকে ভালোবাসিস, এই সুযোগে সে কথাটা জানিয়ে দিস।
--মহুয়া বেশ সুন্দরী আর চটপটে মেয়ে, সবকিছুতেই মজা করা মহুয়ার স্বভাব। নীতুর কাছ থেকে রাহুলের ব্যপারটা জানার পর থেকে বেশ মজা পাচ্ছে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কাল সকালের, কখন কলেজে যাবে, কখন রাহুলকে নিয়ে মজা করবে নীতুর সাথে।
-- অন্যদিকে নীতু বাসায় ফিরে রাহুলকে দেখতে গিয়েছে,
" আজ কেমন আছেন রাহুল ভাই।
" হুম, ভালো আছি।
" আচ্ছা, আপনি জ্বরের ঘোরে মহুয়ার নাম কেন বলছিলেন?
" মহুয়ার নাম বলছিলাম? আমিতো জানিনা!
" আচ্ছা, আপনি কি মহুয়াকে পছন্দ করেন?
রাহুল সে কথার জবাব দেয়না।
" আচ্ছা বলুনতো, কোন মহুয়ার কথা বলছি আমরা এখন?
" তোমার বন্ধু।
" কিভাবে চেনেন তাকে? কথা হয়েছে কখনো?
" নাহ্, বাসার সামনে দিয়ে কলেজে যায় প্রতিদিন---। তোমার সাথেও দেখেছি।
" মহুয়াকে ভালোবাসেন?
এবারও রাহুলের কোন জবাব নেই। নীতুর বুঝতে অসুবিধা হয়না। দীর্ঘশ্বাস চেপে রাহুলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে নীতু। অনেকক্ষন পর রাহুল জবাব দেয় খুব আস্তে।
" হুম, বাসি।
আর কোন কথা নেই দুজনের। নীতুর ভেতরের কষ্ট বুঝার মতো ক্ষমতা রাহুলের নেই। তাইতো নীতুকেই বলে ফেললো,
" আমি যে তাকে ভালোবাসি, সেকথা মহুয়াকে তুমি জানাবে প্লীজ!
" আপনি নিজেই বলুননা কেন? দেখা করতে চান মহুয়ার সাথে?
" হুম।
-- সকালবেলা মহুয়া আগবাড়িয়ে নীতুকে জিজ্ঞেস করছে,
" কিরে কি খবর? কি বলেছে?
" তুই ই সে মহুয়া।
" কি বলিস, আমাকে সে কিভাবে চেনে?
" যাওয়া আসার পথে দেখেছে, আমার সাথে দেখেছে। তোকে কিছু বলতে চায়, দেখা করতে চায় তোর সাথে।
" আমার কথা বাদদে, তুইযে ওকে ভালোবাসিস সেকথা বলেছিলি?
" নাহ্, কি হবে বলে! সেতো আমাকে ভালোবাসেনা। দেখা করবি?
" নাহ্, আমি ওকে ভালোবাসিনা।
" সেকথাটাই না হয় বলে আসবি।
" আচ্ছা বলে আসবো।
-- একদিন ক্লাসের পর মহুয়া অপেক্ষা করছে রাহুলের জন্য একটা পার্কে। শুকনো গাছের গুড়িতে বসে আছে মহুয়া, পাদুটো একটু সামনের দিকে বাড়ানো, নেইলপলিশ লাগানো, একপায়ের গোড়ালীতে একটা পায়েল পড়ে আছে। মুখের সামনে একটা বই মেলে ধরে রেখেছে। মনে হচ্ছে খুব মনযোগ দিয়ে কিছু পড়ছে। আসলে কিন্তু তা নয়। দেখতে চায় রাহুল প্রথম কি বলে। কেউ এসে সামনে দাঁড়িয়েছে বুঝেছে মহুয়া। বইটা সরিয়ে একঝলক দেখে নিলো। রাহুল কোন কথা বলছেনা, যেন মহুয়াকে দেখে সব ভুলে গেছে। মহুয়া বল্লো,
" কিছু বলবেন?
" জ্বী।
" বলুন, কি বলবেন।
" আপনার পা দুটো খুব সুন্দর!
" জ্বী?
" জ্বী।
" এ' কথা বলতে এসেছেন?
" জ্বীনা।
কিছুই আর বলতে পারছেনা সাহসী প্রেমিক।
অনেকক্ষন চেষ্টা করেও কিছু বলতে পারলোনা।
মহুয়ারও বলা হলোনা, " আপনাকে ভালোবাসিনা।
একসময় মহুয়া ওঠে চলে গেলো হাসতে হাসতে। মহুয়ার হাসির অর্থ রাহুল বুঝতে পেরেছে। নিজের উপর রাগ লাগছে রাহুলের।
এরপর থেকে রাহুলকে দেখলে মহুয়ার হাসি পেতো।
রাহুল আবার দেখা করার করার ইচ্ছা ব্যক্ত করতে পারতোনা। যদি আবারও কিছু না বলতে পারে! একদিন চিঠিতেই জানালো ভালোবাসার কথা। মহুয়া সে চিঠির জবাব দেয়নি, রাহুল জবাবের অপেক্ষা করে করে আশা ছেড়ে দিয়েছে। এখন আর মহুয়াকে একনজর দেখার জন্য গ্রীলের ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে থাকেনা।
মহুয়া ব্যপারটা খেয়াল করছে, এইযে একটা ব্যতিক্রম, এটা যেন মহুয়ার ভালো লাগছেনা। কেন যেনো মনে হচ্ছে মজা করতে করতে রাহুলকে সত্যি ভালোবেসে ফেলেছে। অনেকদিন পর রাহুলের সে চিঠির জবাব দেয় মহুয়া।
" তিনবছর পর রাহুল আর মহুয়ার বিয়ে হয়েছে। রাহুল এখন বেশ চটপটে, তিন সন্তানের বাবা, মা তারা এখন। দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসে।
নীতুর ভালো বিয়ে হয়েছে। তিনজন এখন খুব ভালো বন্ধু।।
-------------------------

No comments